বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের শিক্ষার্থী তানজিলা ইয়াসমিন দীপার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি, তার দ্বিতীয় স্বামী শেখ আবীদ উল সানিকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্বজনরা।
সোমবার দুপুরে সরকারি আজিজুল হক কলেজ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, ঘটনাটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তারা নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন অধ্যাপক আনোয়ারুল হক চৌধুরী, সহকারী অধ্যাপক আবু সাঈদ ও সহযোগী অধ্যাপক শফিকুল ইসলামসহ কলেজের শিক্ষকরা। বক্তারা বলেন, মামলার প্রধান আসামি এখনও অধরা থাকায় জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে নিহত শিক্ষার্থীর সাত বছর বয়সী কন্যা আনিশা তাসনীম অরিণের উপস্থিতি সবাইকে আবেগাপ্লুত করে। মায়ের হত্যার বিচার দাবিতে শিশুটির আকুতি উপস্থিতদের হৃদয় স্পর্শ করে। এ সময় পুলিশের দায়িত্ব পালনে ধীরগতির অভিযোগও তোলেন কয়েকজন বক্তা।
নিহতের বড় বোন সাবিনা ইসলাম জানান, কোরবানির ঈদের সময় তানজিলার সঙ্গে তার সর্বশেষ কথা হয়েছিল। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, দ্বিতীয় স্বামীকে নিয়ে শহরের মালগ্রাম কলেজপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। পরে ওই বাসা থেকেই তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলের রক্তাক্ত পরিবেশ, গলায় ফাঁসের দাগ এবং হাতের কবজির ক্ষত দেখে পরিবারের সন্দেহ, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
মানববন্ধনে নিহতের মা মাহফুজা বেগম, বাবা খয়বর আলী, সহপাঠীসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। কর্মসূচি শেষে নিহতের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে নীরবতা পালন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই রাতে শহরের মালগ্রাম কলেজপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তানজিলা ইয়াসমিন দীপার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি সরকারি আজিজুল হক কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের মাস্টার্স (২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ) শেষ পর্বের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ জানায়, প্রায় ১২ বছর আগে তানজিলার প্রথম বিয়ে হয়েছিল এবং তার সাত বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। গত বছর প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি শেখ আবীদ উল সানিকে বিয়ে করেন। এ ঘটনায় দ্বিতীয় স্বামীসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে নিহতের বোন অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত শেখ আবীদ উল সানি পরকীয়ার মাধ্যমে প্রথম সংসার ভাঙার পর পরিকল্পিতভাবে তানজিলাকে হত্যা করে মরদেহ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যান। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মরদেহ উদ্ধারের সময় তার হাঁটু মেঝের সঙ্গে স্পর্শ করা ছিল এবং বাম হাতের কবজিতে গভীর ক্ষতের চিহ্ন দেখা যায়।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, ঘটনাস্থলের আলামত দেখে প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ