নরসিংদী প্রতিনিধি: বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন অভিযোগ করেছেন, ভারত সরকার দীর্ঘদিন বাংলাদেশের একটি অবৈধ ও অসাংবিধানিক সরকারকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে এসেছে।
তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার দায়ে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। অথচ ভারত সরকার দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি সরকারকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে। তারা বাংলাদেশের ১৮ কোটি জনগণকে উপেক্ষা করে একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও দলকে সমর্থন করেছে।”
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে নরসিংদী শিশু একাডেমিতে ইউনাইটেড নরসিংদী অ্যালায়েন্স আয়োজিত ‘৩৬ জুলাই বিশেষ স্মরণ, সম্মাননা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খায়রুল কবির খোকন বলেন, “ভারতের এই অবস্থানের মধ্য দিয়ে তাদের দ্বিচারিতা, ডাবল স্ট্যান্ডার্ড ও দ্বৈত নীতি স্পষ্ট হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্ট যখন শেখ হাসিনার শাসন থেকে মুক্তির দাবিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজপথে নেমেছিল, তখন দেশের মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছিল। ওই দিনই ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলন ও গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেয়।”
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানালে ভারত এ বিষয়ে কিছু জানে না বলে যে বক্তব্য দিয়েছে, সেটিকে বাংলাদেশের প্রতি অবজ্ঞা ও অবহেলার শামিল বলে মন্তব্য করেন খোকন। তাঁর মতে, এ ঘটনায় বাংলাদেশ সম্পর্কে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনাইটেড নরসিংদী অ্যালায়েন্সের সভাপতি সোহান হায়দার। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাজিবুল হাসান ইমন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, সিভিল সার্জন ডা. বুলবুল কবীর, নরসিংদী ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মিজানুর রহমান, জেলা বিএনপির সহসভাপতি হারুন অর রশিদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রিফাতসহ জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতরা।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব