মাগুরা প্রতিনিধি: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি কার্যক্রমকে ঘিরে মাগুরা সদর উপজেলায় শিক্ষকদের কাছ থেকে ফাইলপ্রতি ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির দুই নেতা ও শিক্ষা অফিসার। এ ঘটনায় শিক্ষকদের একটি অংশ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত ও জমাদানের সময় পদোন্নতি প্রত্যাশী প্রত্যেক সহকারী শিক্ষকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসে বসেই এ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, পদোন্নতি একটি সরকারি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হলেও ফাইল ব্যবস্থাপনা বা সংগঠনের খরচের কথা বলে অর্থ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাগুরা সদর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৮২টি। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ১২৭টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। পদোন্নতির জন্য গ্রেডেশন তালিকা অনুযায়ী ২০০ জনের বেশি শিক্ষকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা নেওয়া হচ্ছে, সে অনুযায়ী লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, শূন্যপদের সংখ্যা ১২৭ হলেও ২০০ জনের বেশি শিক্ষকের ফাইল জমা নেওয়ার কারণ হলো, তালিকার শুরুর দিকে থাকা কোনো শিক্ষকের কাগজপত্রে ত্রুটি থাকলে বা তিনি অযোগ্য বিবেচিত হলে পরবর্তী সিরিয়ালের শিক্ষককে বিবেচনায় নেওয়া হবে। সে কারণেই অধিকসংখ্যক শিক্ষকের কাগজপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অন্তত ৬৮ জন শিক্ষক পদোন্নতিতে অনিচ্ছুক বলে জানিয়েছেন। তাদের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, অর্থ দেওয়ার চাপ এড়াতেই তারা পদোন্নতি প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখা গত ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে জারি করা এক নির্দেশনায় সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি এবং সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়। এর পরদিন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলে। পরে ২৩ জুলাই মাগুরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের খসড়া গ্রেডেশন তালিকা ও শূন্যপদের তথ্য পাঠানোর নির্দেশনা দেয়। সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা ও নথিপত্র পর্যালোচনায় পদোন্নতি কার্যক্রমে কোনো ধরনের ফি বা অর্থ গ্রহণের বিধান পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে টাকা সংগ্রহকারী মূল হোতা, শিক্ষক সমিতির দপ্তর সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ বলেন, আমাদের শালিখা উপজেলার একজন শিক্ষক কম্পিউটারে ফাইল তৈরীর কাজ করছেন তাকে ১০ হাজার টাকা দিতে হবে এবং আমাদের চা-নাস্তা করার জন্য কিছু টাকা নেয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আপনারা তথ্য জেনে গেছেন, আপনারা যা পারেন তাই করেন।”
মাগুরা সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস. এম. জাহাঙ্গীর আলম বলেন,“সরকারি পদোন্নতি কার্যক্রমে কোনো ধরনের ফি বা অর্থ নেওয়ার বিধান নেই। আমার পাশের রুমে বসে ওই দুই শিক্ষক কিভাবে টাকা নিল সেটা আমার বোধগম্য নয়। তিনি আরও বলেন,“পদোন্নতির জন্য গ্রেডেশন তালিকা প্রস্তুতসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অফিস থেকেই সম্পন্ন করা হয়।
মাগুরা সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেরুন্নাহার বলেন, “বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে বিধি অনুযায়ী তদন্ত বোর্ড গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে শিক্ষক সমাজের একটি অংশ বলছে, সরকারি চাকরিতে পদোন্নতি প্রক্রিয়াকে ঘিরে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সত্য হলে তা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করবে। তাই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব