রিপোর্টার্স ডেস্ক: রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক কয়েকটি বিস্ফোরণ ও বোমা উদ্ধারের ঘটনায় নাজমুল হাসান মামুন ওরফে ‘বোমারু মামুন’ নামে একজনকে পুলিশ খুঁজছে, যিনি নয় বছর আগে জঙ্গিবাদের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েও ৫ অগাস্টের পর জামিনে বেরিয়ে যান।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ‘নব্য জেএমবি’র সদস্য মামুন মাত্র ২১ বছর বয়সেই বোমা বানানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ‘তার বানানো’ বোমার আত্মঘাতি বিস্ফোরণে ২০১৭ সালে রাজধানীর পান্থপথের হোটেল ওলিওতে সাইফুল ইসলাম নামে এক তরুণ নিহত হন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ‘হোটেল ওলিও’ মামলায় মামুনসহ সব আসামিকেই খালাস দেয় ঢাকার একটি আদালত। ওই রায়ে আদালত তাদের ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী নেতা–কর্মী’ হিসেবে বর্ণনা করে।
পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের এডিসি (ইনভেস্টিগেশন) মাঈন উদ্দীন চৌধুরী বলছেন, “মঙ্গলবার রাতে সাভার থেকে মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরান নামের যে যুবককে বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তার গুরু হচ্ছে ‘বোমারু মামুন’। আরিফের বয়স ২৬ বছরের মত। তাকে গ্রেপ্তারের পর তার বাসায় অভিযান চালানো হয়। তার গুরু নাজমুল হাসান মামুনকে ধরতে এখনো চেষ্টা চলছে।”
পুলিশ এখন বলছে, সম্প্রতি যে কয়টি বোমা পাওয়া গেছে ও বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেসবের ‘নাটের গুরু’ হচ্ছে এই মামুন।
গত ডিসেম্বরে কেরানীগঞ্জের মাদ্রাসায় বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ, এরপর ফেব্রুয়ারিতে যাত্রাবাড়ীতে তল্লাশির সময় পুলিশকে ছুরিকাঘাত করে বোমার ব্যাগ ফেলে পালানো, মার্চে কুমিল্লার শিব মন্দিরে বিস্ফোরণ এবং একই মাসে সায়েদাবাদে পুলিশের তল্লাশির সময় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় মামুন ও তার শিষ্য আরিফের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার কথা বলছেন তদন্তকারীরা।
তখন থেকেই মামুনকে খুঁজছিল পুলিশ। এরপর গত জুলাইতে সনাতনধর্মীদের ‘উল্টো রথযাত্রার’ পথে মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে ছাতার ভেতর ‘পাইপ বোমা’ ফেলে রাখা এবং আশুলিয়ার চারাবাগে চায়ের দোকানে প্রেশার কুকার বোমা ফেলে রাখার ঘটনাতেও মামুন-আরিফরা জড়িত বলে পুলিশের ভাষ্য।
সবশেষ বুধবার সকালে সাভারের গোপেরবাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের সামনে একটি মাঠে পড়ে থাকা ড্রামের ভেতর থেকে আরেকটি ‘প্রেশার কুকার’ বোমা পাওয়ার কথা জানায় পুলিশ। মঙ্গলবার রাত থেকে নীল রঙের ড্রামটি সেখানে পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়েছিল।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আরিফকে গ্রেপ্তারের পর সাভারের শ্যামপুরের তার আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশ। সন্ধ্যাা থেকে বাড়িটি ঘিরে রেখে রাত পৌনে ২টা পর্যন্ত অভিযান চলে। সে সময় ওই বাড়ি থেকে বেশ কিছু পাইপ বোমা ও বোমা তৈরির রাসায়নিক উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।
ওই অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিল সিটিটিসি। তবে দুপুর সোয়া ১২টায় খুদে বার্তা পাঠিয়ে সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করার কথা জানানো হয়।
মঙ্গলবার রাতের ওই অভিযানস্থলে দেখা যায়, শ্যামপুরের একটি পানিতে ডুবে থাকা রাস্তা পেরিয়ে কিলোমিটারখানেক গেলে আব্দুল জলিলের বাড়ি। সেই বাড়ির একটি কক্ষ গত ৫ অগাস্ট থেকে ভাড়া নিয়েছিলেন আরিফ। ভাড়া নেওয়ার সময় নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন আব্বাস আলী হিসেবে, পেশা বলেছিলেন গাড়িচালক। ওই বাসার পাশে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বাড়ির মালিকপক্ষকে আরিফ বলেছিলেন, ওই স্কুলে বাচ্চাদের পড়ানোর জন্য তিনি বাসাটি পছন্দ করেছেন।
তবে ভাড়া নেওয়ার পর ছয় দিনে তাকে দিনের বেলায় তেমন দেখা যায়নি। অনেকটা গোপনে তিনি বড় জেরিক্যাান ভর্তি করে এসিটোন, হাইড্রোজেন পার অক্সাইডসহ আরও কিছু রাসায়নিক বাসায় জমা করেছিলেন, যেগুলো দিয়ে টিএটিপি (ট্রাই এসিটোন ট্রাই পারঅক্সাইড) নামে এক ধরনের বিস্ফোরক বানানো হচ্ছিল।
সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা বলেন, “গত ডিসেম্বরে কেরানীগঞ্জের মাদ্রসায় বিস্ফোরণের পর আমরা একইরকম টিএটিপি পেয়েছিলাম। এক্সপ্লোসিভ হিসেবে টিএটিপি খুবই ফ্রেজাইল (অনিরাপদ)। এটা উচ্চ চাপ, তাপ কীংবা শব্দেও বিস্ফোরিত হয়–এমন নজির রয়েছে।”
‘হোটেল ওলিও’ মামলায় খালাস যেভাবে
হোটেল ওলিও মামলায় ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাজধানীর উত্তরা থেকে মামুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সে সময় বলা হয়েছিল তিনি নব্য জেএমবির ‘শুরা সদস্য’। এর আগে ২০১৭ সালের ১৫ অগাস্ট সকালে পান্থপথের হোটেল ওলিওতে একটি ‘জঙ্গিবিরোধী অভিযানের’ তথ্য জানায় ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি)। তখন বলা হয়েছিল, ১৫ অগাস্ট শোক দিবসের অনুষ্ঠানে নাশকতার জন্য ধানমণ্ডি ৩২ থেকে কিলোমিটারখানেক দূরে হোটেল ওলিওতে বোমা নিয়ে অবস্থান করছেন একজন ‘জঙ্গি’। তাকে ধরতে অভিযান চালানোর সময় তিনি সেই বোমার আত্মঘাতি বিস্ফোরণ ঘটান। তাতে ওই ‘উগ্রবাদী’ তরুণ নিহত হন। বিস্ফোরণে হোটেল ভবনের দেওয়াল ধসে পড়ে। পরে পুলিশ জানায়, নিহত ওই তরুণের নাম সাইফুল ইসলাম।
এই ঘটনায় কলাবাগান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা করে পুলিশ। দুই বছর তদন্ত শেষে পুলিশ ১৩ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালতে ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এ মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে ৯ জন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
পরে গত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আবদুল হালিম এ মামলার ১১ আসামিকেই খালাস দেন। তারা হলেন- নাজমুল হাসান মামুন, তাজরিম খানম, নও মুসলিম আবদুল্লাহ, মো. কামরুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আইচান, আকরাম হোসেন খান, তারেক মোহাম্মদ আদনান, তানভীর ইয়াছির করিম, সাদিয়া হোসনা, আবুল কাশেম ফকির, হুমায়রা জাকির নাবিলা।
মামলা তদন্তের সময় পুলিশ বলেছিল, এরা সবাই আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসপন্থি উগ্রবাদী। তখনকার পুলিশ কর্মকর্তারা এ সংগঠনকে বলতেন ‘নব্য জেএমবি’। মামলার অভিযোগপত্রেও তাদের নিষিদ্ধ সংগঠন নব্য জেএমবির সদস্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল।
তবে তাদের খালাসের রায়ে বলা হয়, “আসামিপক্ষের আইনজীবী ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ২৬৫ (এইচ) ধারায় একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। মামলার শুনানিতে তিনি বলেন যে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে রাজনৈতিক কারণে অহেতুক মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
তিনি আরও নিবেদন করেন, “তৎকালীন আইজিপি (পুলিশ মহাপরিদর্শক) শহীদুল হক তার লিখিত বইয়ে উল্লেখ করেন, তৎকালীন সরকারপ্রধান তাকে এই মর্মে বলেন, (ধানমন্ডির) ৩২–এর এত কাছে ঘটনাটি না ঘটালেও পারতা। উল্লেখ্য, এই আলোচিত আইজিপি শহীদুল হক, সরকার পরিবর্তনের পরে বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচারের সম্মুখীন এবং তিনি জেলহাজতে আছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিলে মামলাটির সত্যতা নিয়ে গভীর সন্দেহ থেকে যায়।”
আদেশে বিচারক লেখেন, “নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, আসামিরা সবাই বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী নেতা–কর্মী। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দেখা যায়, সরকারবিরোধী কর্মসূচি আহ্বান ও পালনে ক্ষমতাসীনেরা বাধা দেয় এবং মামলা দিয়ে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে চায়। আলোচ্য মামলার ক্ষেত্রে এমনটি হয়েছে বলে আদালত দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। তাই আসামিপক্ষের বক্তব্য এবং সার্বিক বিবেচনায় মামলা হতে ১১ আসামিকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হল।
পুলিশ বলছে, সাভার থেকে সোমবার গ্রেপ্তার আরিফও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জঙ্গি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে ছিলেন। ২০২৪ সালের অগাস্টের পট পরিবর্তনের পর সেপ্টেম্বর মাসে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
আরিফের আস্তানা
সিটিটিসির কর্মকর্তারা বলছেন, আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকায় মামুন-আরিফদের একটি আস্তানা ছিল। চারাবাগের একটি চায়ের দোকানে গত ৩০ জুলাই রাতে প্রেশার কুকার বোমা ফেলে যাওয়ার পর তাদের নতুন আস্তানার প্রয়োজন হয়। এরপর তারা সাভারের শ্যামপুরের ওই বাসা ভাড়া নিয়ে বোমা তৈরির সরঞ্জামগুলো সরিয়ে নিয়ে যায়।
আশুলিয়ার চারাবাগ ও সাভারের শ্যামপুর পোশাক শিল্প অধ্যুষিত এলাকা। পোশাকশ্রমিকদের এসব আবাসিক এলাকায় জঙ্গিদের আস্তানা গড়ার প্রবণতার কথা এর আগেও জানিয়েছিল পুলিশ।
২০১৫ সালের ২১ এপ্রিল আশুলিয়ায় বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের কাঠগড়া শাখায় ডাকাতি হয়। ডাকাতির সময় গুলি করে ও কুপিয়ে আটজনকে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনাতেও জঙ্গিরা জড়িত ছিল বলে সে সময় জানিয়েছিল পুলিশ।
সাভারের শ্যামপুরে মঙ্গলবার যে বাড়ি ঘিরে পুলিশ অভিযান চালায়, তার মালিক আব্দুল জলিল নামের এক ব্যক্তি। তিনি পক্ষঘাতগ্রস্ত ও শয্যাশায়ী। তার মেয়েরা বাসাটির দেখাশোনা করেন।
তার বড় মেয়ে ইলমা বলছেন, ‘গত ৫ অগাস্ট আব্বাস আলী নামের পরিচয়পত্র দিয়ে এক ব্যক্তি মাসে চার হাজার টাকায় একটি ঘর ভাড়া নেন। ১০০০ টাকা তিনি অগ্রিম দিয়েছিলেন। বাসায় ওঠার পর তিনি একটি ফ্যান লাগিয়েছিলেন। এরপর তাকে আর দিনের বেলায় দেখা যায়নি। ওই ঘর থেকে যেসব জিনিসপত্র পুলিশ উদ্ধার করেছে, সেগুলো তিনি রাতের বেলায় কোনো এক ফাঁকে নিয়ে এসেছিলেন। মাঝে মাঝে রাতের বেলায় নিচতলা থেকে জিনিসপত্র জোরে জোরে রাখার শব্দ পাওয়া যেত।’
‘অশুভ চক্র’
গত ২৬ ডিসেম্বর কেরানীগঞ্জের উম্মুল কুরা নামের একটি মাদ্রাসায় বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ ঘটে। তাতে মাদ্রাসার পরিচালক শেখ আল আমিন ও তার স্ত্রী-সন্তানরা আহত হন। স্ত্রী সন্তানদের রেখেই পালিয়ে যায় আল আমিন। তার পালিয়ে যাওয়ার সূত্র ধরেই তখন আরিফ ও বোমারু মামুনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পায় পুলিশ।
সিটিটিসি কর্মকর্তারা বলছেন, কেরানীগঞ্জে মাদ্রাসার আড়ালে বোমা তৈরির কারখানা বানিয়ে বসেছিল জঙ্গিরা। সেখানে সারারাত বোমা বানানোর পর ভোরের দিকে অসতর্কতার কারণে বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর আল আমিন স্ত্রী-সন্তানদের রেখে পালিয়ে গিয়ে সাভারে বোমারু মামুনের আস্তানায় গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে সেখান থেকে দক্ষিণ ঢাকার দোলাইরপাড়ে আরিফের বাসায় গিয়ে ওঠেন। আরিফের দোলাইপাড়ের সেই বাসা থেকেই আল আমিনকে তখন গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে তখন আরিফ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
সিটিটিসির কর্মকর্তারা বলছেন, কেরানীগঞ্জের মামলায় গ্রেপ্তার আল আমিন, অলি উল্লাহ জনি, শাহীন ওরফে আবু বকর, দর্জি আমিন এরা সবাই একই দলের। আর এদের গুরু হচ্ছেন বোমারু মামুন। বিগত সময়ে আল আমিন, অলি উল্লাহ জনি–এরা সবাই জঙ্গি মামলায় গ্র্রেপ্তার হয়েছিলেন। জনি ও আল আমিনকে পুলিশ ‘গুম’ করে রেখেছিল–এমন অভিযোগে তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে মামলা করেছেন। সেই মামলায় কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিচারও চলছে।
এখন আবার নতুন করে জঙ্গিবাদে তাদের নাম আসার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সিটিটিসির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক বলেন, “এ বিষয়গুলো নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে যার নাম আসবে তাকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করব আমরা।” আর মামুনের বিষয়ে তিনি বলেন, “মামুনকে গ্রেপ্তারের জন্য আমরা এখনো চেষ্টা চালাচ্ছি, এ বিষয়ে বলার অপেক্ষা রাখে না।”
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব