ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গোকুলনগর গ্রামে চার মাস ধরে বুকসমান কাদায় চারটি মহিষ বেঁধে রাখা হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ভিডিও প্রকাশ হওয়ায় খবর পেয়ে মহিষগুলো উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিষয়টি নজরে আসে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেনের।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে ইউএনওর হস্তক্ষেপে মহিষগুলোকে উদ্ধার করে শুকনো ও নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তর করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার স্বরূপপুর ইউনিয়নের গোকুলনগর গ্রামে আব্দুল আলীম চার মাস ধরে বুক সমান কাদায় চারটি মহিষ বেঁধে রেখেছিলেন। মহিষগুলোকে কাদাপানির মধ্যেই খাবার দেওয়া হতো। বুক সমান কাদার ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকতো মহিষগুলো। অবলা পশুগুলোর সঙ্গে এমন অমানবিক আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এমন অস্বাভাবিক ও কষ্টকর পরিবেশে থাকার কারণে মহিষগুলোর অবস্থা দিনদিন খারাপের দিকে যাচ্ছিল। মহিষগুলোকে কাদা থেকে তুলে শুকনা ও নিরাপদ স্থানে রাখার অনুরোধ করলেও মহিষের মালিক আব্দুল আলীম কারও কথা শোনেননি।
পরে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা কাদায় আটকে থাকা মহিষগুলোর দুর্দশার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে। সেই ভাইরাল ভিডিওটি মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেনের নজরে এলে তিনি মহিষগুলো উদ্ধারের উদ্যোগ নেন।
স্থানীয় নাজমুল হোসেন জানান, প্রাণীরা মানুষের মতো নিজেদের কষ্টের কথা বলতে পারে না। কিন্তু তাদেরও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। চারটি মহিষকে দীর্ঘদিন ধরে বুকসমান কাদার মধ্যে আটকে রাখার হয়।
আব্দুল আলীমের বৃদ্ধা মা সত্যা খাতুন জানান, ছেলেকে একাধিকবার বলেছি মহিষগুলোকে ভালো স্থানে রাখতে কিন্তু সে কারো কোনো কথাই শুনত না। মহিষগুলোকে কাঁদাপানিযুক্ত স্থানে বেঁধে রাখত। সব সময় ওখানেই খেতে দিত।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন জানান, মহিষগুলোকে উদ্ধার করে শুকনা স্থানে রাখা হয়েছে। মহিষের মালিককে ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মহিষগুলোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা, শুকনা মেঝে, খাবার-পানি এবং নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব