রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশের যেসব ছোট ছোট এলাকায় এখনো হাম-রুবেলার টিকা থেকে শিশুরা বাদ পড়েছে, সেসব এলাকায় বিশেষভাবে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য মজুত থাকা ১৬ লাখ হাম-রুবেলার টিকা ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা আরও কার্যকর করতে চিকিৎসা নির্দেশিকা ব্যাপকভাবে প্রচার এবং চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রোববার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত টিকাবিষয়ক আন্তসংস্থা সমন্বয় কমিটির (আইসিসি) সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।
সভায় দেশে হামে আক্রান্তদের বয়সভিত্তিক তথ্য নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে জানানো হয়, আক্রান্তদের মধ্যে ১০ শতাংশের বয়স ছয় মাসের কম। ৭৪ শতাংশ আক্রান্তের বয়স ছয় মাস থেকে ৫৯ মাসের মধ্যে। ৫ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশু আক্রান্ত হয়েছে ১৪ শতাংশ। বাকি ২ শতাংশ আক্রান্তের বয়স ১০ থেকে ১৪ বছর বা তার বেশি।
সভায় স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, দেশের কিছু ‘পকেটে’ বা ছোট ছোট এলাকায় ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী অনেক শিশু এখনো হাম-রুবেলার টিকা পায়নি। এসব এলাকার বাদ পড়া সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে। বর্তমানে সরকারের কাছে আরও ১৬ লাখ টিকা মজুত রয়েছে, যা এ কার্যক্রমে ব্যবহার করা হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সোমবার সন্ধ্যার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের ৫ এপ্রিল থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী মোট ১ কোটি ৯৩ লাখ ৬৩ হাজার ৯১২ শিশুকে হামের এক ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে।
তবে টিকাদান কার্যক্রমের মধ্যেও দেশে হামের প্রকোপ ও মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮১৫ জনে।
এ ছাড়া পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৯ জন। অর্থাৎ, হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম—দুই হিসাব মিলিয়ে চলতি বছরে এ রোগে মোট ৯১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের বড় একটি অংশের বয়স পাঁচ বছরের কম। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু কোনো হাম-রুবেলার টিকাই পায়নি। ফলে বাদ পড়া শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনার পাশাপাশি আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আইসিসির সভায় তাই টিকাদানের পাশাপাশি হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা নির্দেশিকা মাঠপর্যায়ে ব্যাপকভাবে প্রচার এবং চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম