ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের মকরমপট্টি গ্রামের মারুফ মাতুব্বর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন গ্রামবাসী। ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসি চেয়ে মা মনিরা বেগম তিনি বিচারের দাবী অসহায় হয়ে মাঠে নেমে আসেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগষ্ট) দুপুরে ঘারুয়া ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন সড়কে মানব বন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে এক সপ্তাহের মধ্যে মারুফ মাতুব্বর হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা না হলে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন তারা। হত্যার পর মারুফের লাশ গুমের অপচেষ্টা ও মামলা দায়ের করা হলেও আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশ রহস্যজনক ভূমিকায় অভিযোগ স্বজনদের। তারা বলেন, মারুফ মাতুব্বর ও লীজা তারা দুজনে মকরমপট্টি গ্রামের বাড়ি হওয়ায় দুজনের মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে উঠে। পার্শ্ববর্তী রাজৈরের কাশেমপুর গ্রামে বিয়ে হলেও স্বামী প্রবাসী হওয়ায় লীজার সাথে থেমে ছিল না মারুফের পরকীয়ার সম্পর্ক। গত ২১ জুলাই বিকেলে লীজা মোবাইল ফোনে নিজের শ্বশুরবাড়ি কাশেমপুর গ্রামে মারুফ মাতুব্বরকে ডেকে নেয় সে।
পূর্বপরিকল্পিতভাবে এদিন রাতেই লীজা ও তার লোকজন মারুফকে হত্যা করার পর ঘরের মধ্যে ঝুলিয়ে রাখেন। দুই দিন পর্যন্ত মৃতদেহ ঘরের ভেতরে রাখার পর মৃতদেহ গুম করতে তারা অপচেষ্টা চালায়।
কিন্তু পিছু ভয়ে উদ্দেশ্য সফল হতে না পেরে ২২ জুলাই রাতে তার বাবার বাড়ির আত্মীয় মকরম পট্টি গ্রামের দবির মাতুব্বরের কাছে গোপনে মারুফের মৃত্যুর খবর পাঠানোর পরে লীজার শশুর বাড়ির লোকজন, দবির মাতুব্বরের সমম্বয়ে তারা কৌশলে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সকল ধরনের চেষ্টা চালায়। দুদিন পরে মারুফ পরিবার ছেলের ঘটনাটি জানতে পারেন। খবর পেয়ে পুলিশ পরকীয়া প্রেমিকা লীজার শ্বশুরবাড়ি থেকে মৃতদেহ উদ্ধার ও ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় মারুফের পিতা হায়দার মাতুব্বর গত ২৩ জুলাই রাজৈর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে এ পর্যন্ত পুলিশ আসামীদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেন নি অভিযোগ উপস্থিত বক্তাদের।
স্থানীয় চেয়ারম্যান মনসুর মুনশী বলেন, পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। তথাপি হত্যাকাণ্ডের কোন অগ্রগতির দেখতে পাচ্ছি না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন প্রয়োজন হলে সকল জনগণকে নিয়ে আমরা জোরেসোরে আন্দোলনে নামবো।
সাবেক চেয়ারম্যান ও মহিলা কলেজের ভার প্রাপ্ত অধ্যক্ষ শফিউদ্দিন মোল্লা মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বলেন, পুলিশের অগ্রগতি দেখে ন্যায় বিচার পেতে সন্দেহের সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
ঘারুয়া ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি আলিমুজ্জামান মধু বলেন, মারুফ মাতুব্বর হত্যাকান্ডের সাথে যারা জড়িত রয়েছে তাদের বিচারের দাবি জানাই।
বাবা হায়দার মাতুব্বর জানান, আমার ছেলেকে দবির মাতুব্বর ও সাগর ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। তারা লাশ গুম করার চেষ্টা চালায় এবং ঘরের মধ্যে লুকিয়ে রাখে। এর দুইদিন পর খবর পাই আমরা। আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে কিন্তু পুলিশের ব্যবহারে আমাদের সন্দেহ আরো বেড়ে যায় বিচার পাওয়া নিয়ে। একমাস যাবত পুলিশের পিছে পিছে হাটতেছি মূল্যায়ন দিচ্ছে না পুলিশ। কোন আসামিও গ্রেপ্তার করতে পারে নি পুলিশ।
মামলার তদন্তকারি অফিসার রাজৈর থানার এসআই ইমরান হোসেন জানান, আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সব রকমের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। খুব শীঘ্রই পলাতক আসামি গ্রেপ্তার হচ্ছে বলে আশ্বস্ত করেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম