ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: সুইডেনের একটি স্কুলে ছুরিকাঘাতে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুই কিশোরসহ ৩ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার কিছু পর ফাগেরস্তা শহরের ব্রিনেল স্কুলে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজনকে গ্রেফতারের আগে কর্মকর্তারা তার দিকে গুলি ছোড়েন। পরে তাকে আটক করা হয়। তবে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। হামলার পর নিরাপত্তার কারণে আশপাশের আরো আটটি স্কুলের শিক্ষার্থী ও কর্মীদের কিছু সময়ের জন্য ভবনের ভেতরে রাখা হয়। পরে তাদের ওপর আরোপ করা বিধি-নিষেধ তুলে নেওয়া হয়। একই সময়ে ভেস্টম্যানল্যান্ড অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
সুইডেনের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, হামলার সময় সন্দেহভাজনের মাথায় হেলমেট ছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই তরুণ ব্রিনেল স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী। হামলার কারণ কী, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে এখন সাধারণ মানুষের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টেরসন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হামলাটিকে ‘গুরুতর ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, হামলার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। তবে পুলিশ ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।
সুইডেনের রাজা কার্ল ষোড়শ গুস্তাফও ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, খবরটি তিনি ‘হতাশা ও দুঃখের সঙ্গে’ পেয়েছেন। হামলায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের পরিবার ও স্বজনদের কথাও তিনি মনে রেখেছেন বলে জানান। গ্রীষ্মের ছুটির পর শিক্ষার্থীরা সম্প্রতি ব্রিনেল স্কুলে ফিরেছিল। নতুন শিক্ষাবর্ষ এ সপ্তাহের সোমবার বা বুধবার শুরু হয়েছিল বলে জানা গেছে। সুইডেনের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিনেল স্কুলে ৫০০ জনেরও কম শিক্ষার্থী রয়েছে। রাজধানী স্টকহোম থেকে স্কুলটির দূরত্ব প্রায় ১৭০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুইডেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বেশ কয়েকটি সহিংস হামলার ঘটনা ঘটেছে।
২০২৫ সালে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে। ওরেব্রোর একটি প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্রে বন্দুক হামলায় হামলাকারীসহ ১১ জন নিহত হন। ওই ঘটনার পর সুইডেন সরকার দেশটির অস্ত্র আইন আরো কঠোর করে। তদন্তে জানা যায়, হামলার সন্দেহভাজনের নামে বৈধ চারটি রাইফেল ছিল। এর মধ্যে তিনটি ঘটনাস্থল ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাওয়া যায়। এর আগে ২০২২ সালে মালমোর একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহিংস হামলায় দুই শিক্ষক নিহত হন। পরে ১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী ওই হামলার দায় স্বীকার করেন। ২০১৫ সালে ত্রোলহেত্তানের একটি স্কুলে তলোয়ার নিয়ে হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় একজন শিক্ষক ও একজন শিক্ষার্থী নিহত হন।
রিপোর্টার্স২৪/এম এইচ