কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: সারের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও ডিলার পয়েন্ট না খোলায় কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে গুদামের দরজা ভেঙে প্রায় ১০ হাজার কেজি ইউরিয়া সার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিক্ষুব্ধ কৃষকদের বিরুদ্ধে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরই মধ্যে ৩৩ জন কৃষক ৩৩ বস্তা সার ফেরত দিয়েছেন। বাকি সার উদ্ধারে চলছে চেষ্টা।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা এলাকায় মেসার্স শাহ আমানত ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ওই ডিলার পয়েন্টে সার নিতে সকাল থেকেই দুই শতাধিক কৃষক জড়ো হন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও ডিলার পয়েন্টের কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তারা গুদামের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ৫০ কেজি ওজনের ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যান। যার মোট পরিমাণ ৯ হাজার ৮৫০ কেজি।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং গুদামে থাকা বাকি সার রক্ষা করে।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিমুদ্দিন জানান, শিলখুড়ি ইউনিয়নে সারের চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম। ইউনিয়নটিতে প্রায় চার হাজার বস্তা সারের চাহিদা থাকলেও বরাদ্দ হয়েছে এক হাজার ৩২০ বস্তা। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে সার না পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। সেই ক্ষোভ থেকেই গুদাম ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশের তৎপরতায় ৩৩ জন কৃষক ৩৩ বস্তা ফেরত দিয়েছেন। বাকি সার উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।
তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারের দাবি, উপজেলায় ইউরিয়া সারের কোনো সংকট নেই। তিনি জানান, আগস্ট মাসে উপজেলার ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ৬৮০ মেট্রিক টন। সেই পরিমাণ সার বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং বিতরণও চলছে। কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক থেকেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ বলেন, ধলডাঙ্গার ওই পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, কৃষি কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে সার বিতরণ চলছিল। এ সময় কিছু মানুষ গুদাম থেকে সার নিয়ে যায়। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। কিছু সার উদ্ধার করা হয়েছে, বাকিগুলো উদ্ধারে অভিযান চলছে।
সার নিয়ে কৃষকদের মধ্যে এমন উত্তেজনা ও গুদাম ভাঙার ঘটনায় এখন প্রশ্ন উঠেছে—বরাদ্দ ও বিতরণ ব্যবস্থাপনায় কোথাও কোনো ঘাটতি ছিল কি না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে বাকি সার উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটিও এখন দেখার বিষয়।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব