ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় পৃথক ঘটনায় এক নারী ও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একজনের মরদেহ ঘরের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যজন নিখোঁজের পর বাড়ির পাশের পুকুরে পাওয়া যায়। দুটি ঘটনাতেই সংশ্লিষ্ট থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, রাণীশংকৈল উপজেলার বাচোর ইউনিয়নের বাকসা সুন্দরপুর এলাকায় সরক রাণী (৩৫) নামের এক নারী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে বাড়ির লোকজনের অগোচরে তিনি ঘরের বাঁশের ধরনার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করেন।
নিহত সরক রাণী ওই এলাকার মৃত বিজয় চন্দ্র রায়ের মেয়ে। পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এ কারণে হতাশা থেকে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে পরিবারের ধারণা। এ ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে তাঁদের কোনো অভিযোগ বা সন্দেহ নেই।
অন্যদিকে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আমজানখোর ইউনিয়নের চিলিভিটা এলাকায় অন্তরা রানী (৬) নামের এক শিশুর পুকুরে ডুবে মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে বাড়ির পাশের নানা বাড়ির উদ্দেশে খেলতে খেলতে বের হয় অন্তরা। রাত আটটার পরও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সারা রাত খোঁজ করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরদিন শুক্রবার ভোর ছয়টার দিকে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে অন্তরা রানীকে পানিতে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের এক সদস্য। পরে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
নিহত অন্তরা রানী আমজানখোর এলাকার রতিন চন্দ্র সিংহ ও রোসনা রানীর মেয়ে। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, অসাবধানতাবশত পুকুরের পানিতে পড়ে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা সন্দেহের কথা জানানো হয়নি।
রাণীশংকৈল ও বালিয়াডাঙ্গী থানার পুলিশ জানিয়েছে, দুটি ঘটনায়ই মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনাগুলো অপমৃত্যু হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব