ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত জুলাইয়ে কংগ্রেসকে জানিয়েছিলেন যে তার প্রশাসন সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ হিসেবে দেওয়া তকমা প্রত্যাহার করার পরিকল্পনা করছে।
যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে সিরিয়াকে 'সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র' হিসেবে দেওয়া তকমা প্রত্যাহার করেছে বলে সোমবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও হায়াত তাহরির আল-শামকে (এইচটিএস) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে দেওয়া তকমা প্রত্যাহার করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, 'এর ফলে সিরিয়া এখন আর সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত সরকারগুলোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত বিধিমালা, ৩১ সিএফআর-এর ৫৯৬ নম্বর অংশ, অথবা ২২ ইউএসসি ৭২০৫(এ)(১)-এর আওতায় থাকা নিষেধাজ্ঞার অধীন নয়।'
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, 'সিরিয়ার জনগণকে উন্নতির পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় আজকের পদক্ষেপের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করছে। এই পদক্ষেপ সিরিয়ায় অতিরিক্ত বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সহায়তা করবে, যা দেশটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে।'
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত জুলাইয়ে কংগ্রেসকে জানিয়েছিলেন যে তার প্রশাসন সিরিয়াকে 'সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র' হিসেবে দেওয়া তকমা প্রত্যাহার করার পরিকল্পনা করছে।
সিরিয়াবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারাক বলেন, এই তকমা দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়ার জনগণ এবং দেশটি পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের মধ্যে একটি দেয়াল হিসেবে কাজ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, 'আজ আরও একটি দেয়াল ভেঙে পড়ল। সংঘাতের জায়গা নিতে পারে পুঁজি, বিচ্ছিন্নতার জায়গা নিতে পারে উদ্যোগ, আর বিশৃঙ্খলার ওপর বাণিজ্যের জয় অব্যাহত থাকতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এর আগে চলতি গ্রীষ্মে বলেছিলেন, এই তকমা প্রত্যাহারের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পথ আরও উন্মুক্ত হবে, সিরিয়াকে পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া হবে এবং দেশটির জনগণের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।
তিনি আরও বলেন, 'নিজেদের মধ্যে এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও ঐক্যবদ্ধ একটি সিরিয়া শুধু এই অঞ্চলের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই কল্যাণকর।'
সৌদি আরব সফরের পর গত গ্রীষ্মে ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন, যাতে সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি সিরিয়ার সরকারের ইতিবাচক পরিবর্তন এবং সন্ত্রাসবাদবিরোধী কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেছিলেন। এই সরকার আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা নিজেও আগে একজন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন এবং একসময় যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন। তিনি অঙ্গীকার করেছিলেন যে ভবিষ্যতে তিনি কখনোই সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করবেন না।
রিপোর্টার্স২৪/এম এইচ