টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুরে মুক্তিপন না পেয়ে শামিম (২৩) নামের এক কলেজ ছাত্রকে শ্বাসরোধে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। হত্যার পর মরদেহটি ঘাতকের বাড়ির পাশে মাটির নীচে পূতে রাখা হয়।
পুলিশ মঙ্গলবার(২৫ আগস্ট) সকালে মরদেহ উদ্বার করে। নিহত শামিম ভাদ্রা ইউনিয়নের পং ভাদ্রা গ্রামের বিল্লাল মল্লিকের ছেলে।
সে বেসরকারি পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউটের (সাইক ইনিস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট এন্ড টেকনোলজি) শেষ বর্ষের ছাত্র।
এ ঘটনায় পুলিশ ঘাতক অনিক (২৮) কে গ্রেফতার করেন। তার কাছ থেকে হত্যা কান্ডের শিকার কলেজ ছাত্র শামিমের সেল ফোন উদ্বার ও তার তথ্য মতে ঘটনা স্থল থেকে মাটি খুড়ে মরদেহটি উদ্বার করা হয়।
এর আগে ৪ দিন পূর্বে শুক্রবার (২১ আগষ্ট) বিকেলে শামিম নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের ২ দিন পর ২৩ আগষ্ট নিহতের পিতা বিল্লাল মল্লিক নাগরপুর থানায় একটি সাধারন ডাইরী করেন।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়,গত শুক্রবার বিকাল ৪ টার দিকে ভিকন ভাদ্রা গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে অনিক (২৮) মোবাইল ফোনে শামিম কে ডেকে নিয়ে যায়। এর পর থেকে শামিম নিখোঁজ হয়।
অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে শামিমের পিতা নাগরপুর থানায় একটি সাধারণ ডাইরী করে। শামিমের কল লিষ্টের সূত্র ধরে সোমবার (২৪ আগষ্ট) রাতে অনিককে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।
আটকের পর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে শামিমকে গলায় রশি পেচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে তার বাড়ির পাশে মাটির নীচে পুঁতে রাখার কথা স্বীকার করে অনিক।
পুলিশ তার (অনিক) বাড়ি থেকে শামিমের মোবাইল ফোন উদ্বার করে। মঙ্গলবার সকালে তার দেয়া তথ্যমতে ঘটনা স্থল থেকে শামিমের বস্তা বন্দি অর্ধ্বগলিত মরদেহটি উদ্বার করে।
নিহতের পিতা বিল্লাল মল্লিক কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন,ঘাতক অনিক শামিমের মোবাইল থেকে আমার বাড়িতে ফোন করে ৩০ মিনিটের দেড় লক্ষ টাকা পাঠাতে বলে ফোন বন্ধ করে দেয়।
তিনি হাউমাউ করে কেদে সন্তান হত্যার সুস্ঠু বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করেন।
এদিকে সন্তান হারা মা শাহানারা আক্তারের আর্ত চিৎকার ও আহাজারীতে গোটা পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। সারাক্ষণ তিনি পাগলীনির মতো বিলাপ করে যাচ্ছে।
নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্বার করে ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে নিহতের পিতা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অনিক নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অনিক একজন মাদকাসক্ত ও মাদক কারবারী। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে বেশকিছু তথ্য পেয়েছে পুলিশ । এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের ব্যাপারে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব