ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটেছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি মন্তব্য করে, দেশটির আশঙ্কাজনক মানবাধিকার পরিস্থিতি এখন এক ‘নতুন তলানিতে’ গিয়ে ঠেকেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কার্যালয়ের ওই প্রতিবেদনে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির পেছনে অনবরত বিমান হামলা, অগ্নিসংযোগ ও বেসামরিক নাগরিকদের বাস্তুচ্যুত করার ঘটনাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গত বছরের ১ জুন থেকে চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত সময়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই প্রতিবেদনে বলা হয়, সামরিক বাহিনীর বৈশ্বিক স্বীকৃতি অর্জনের চেষ্টা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ও মানবিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে নজরদারি প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিটি ক্ষেত্রে নাগরিকদের ওপর ভীতি ও চাপ বাড়ার পাশাপাশি দেশটিতে অবৈধ অর্থনীতির আকারও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিরল মৃত্তিকাসম্পদ ও দুর্লভ খনিজের অবৈধ উত্তোলন পরিবেশ ও জনজীবন ধ্বংস করছে। এর পাশাপাশি মাদক উৎপাদন, মানব পাচার ও স্ক্যাম সেন্টারের মতো অবৈধ কর্মকাণ্ড সংঘাতের অর্থ জোগাতে সাহায্য করছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে বলেন, এই প্রতিবেদনটি মিয়ানমারজুড়ে মানুষের দুর্ভোগ, দুর্দশা ও নিষ্ঠুরতার হৃদয়বিদারক চিত্র তুলে ধরেছে। আমি সব রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীর প্রতি আহ্বান জানাই– তারা যেন নিজেদের কর্মকাণ্ড বা নিষ্ক্রিয়তার বিষয়ে আত্মসমালোচনা করেন এবং প্রশ্ন করেন, মিয়ানমারের মানুষের জন্য এ অবস্থা ন্যায়সংগত কিনা?
২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী ক্ষমতা দখল করে। এর মাধ্যমে দেশটির গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতার অবসান ঘটে। অভ্যুত্থানের পর থেকে সামরিক বাহিনী এবং একাধিক গণতন্ত্রকামী ও জাতিগত সংখ্যালঘু বিদ্রোহীদের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমার। গত পাঁচ বছরে এই লড়াইয়ে সব পক্ষ মিলিয়ে এক লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হয়।
চলতি বছরের এপ্রিলে অভ্যুত্থানের নেতা মিন অং হ্লাইং মিয়ানমারের বেসামরিক প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। বর্তমানে অভ্যুত্থান-পরবর্তী আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে উঠতে এবং বিদেশে কূটনৈতিক স্বীকৃতি আদায় করতে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন মিন অং হ্লাইং।
রিপোর্টার্স২৪/এম এইচ