মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুর শহরে সানজিদা রহমান স্মৃতি নামের এক কলেজ ছাত্রীকে কুপিয়ে হাত বিচ্ছিন্ন এবং একই সাথে ওই ছাত্রীর বাবা-মাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত শয়নকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে শহরের মল্লিকপাড়ার একটি আম বাগান থেকে তাকে আটক করা হয়।
অভিযুক্ত শয়ন একই হোটেল ব্যবসায়ী আবু তালেবের ছেলে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শহরের লর্ড মার্কেট এলাকায় ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী সেলিম হোসেনের বাড়িতে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত দেড়টার দিকে শয়ন সেলিম হোসেনের বাড়িতে ঢুকে তার মেয়ে স্মৃতির ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে অতর্কিত হামলা চালান। একপর্যায়ে কুপিয়ে তার ডান হাত বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এ সময় স্মৃতির চিৎকার শুনে বাবা সেলিম হোসেন ও মা রেবেকা খাতুন ছুটে এলে তাদের ওপরও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে শয়ন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় স্মৃতি, তার বাবা সেলিম হোসেন ও মা রেবেকা খাতুনকে উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। স্মৃতির মা রেবেকা খাতুন জানান, শয়ন স্মৃতিকে পছন্দ করতো। যে কারণে বিভিন্ন সময় স্মৃতিকে বিরক্ত করতো। একপর্যায়ে স্মৃতিকে তুলে নিয়ে বিয়ে করে। পরে বিষয়টি জানতে পেরে স্মৃতিকে তার কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, শয়ন ও স্মৃতির প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। একপর্যায়ে পরিবারের অমতে বিয়ে হয় তাদের। বিয়ের কয়েকদিন পরই শয়ন নেশাগ্রস্ত বিষয়টি জানতে পেরে শুরু হয় দাম্পত্য কলোহ। তারই জের ধরে স্মৃতি শয়নকে তালাক দেয় স্মৃতি। পরিস্থিতি বাবার বাড়িতে চলে আসো। এতে ক্ষীপ্ত স্মৃতিকে কুপিয়ে জখম করে শয়ন। এ সময় কুপিয়ে ঐ ছাত্রীর ডান হাত বিচ্ছিন্ন করে দেয়। মেয়েকে বাঁচাতে গেলে কুপিয়ে জখম করা হয় বাবা সেলিম হোসেন ও মা রেবেকা খাতুনকে।
তবে তাদের বিয়ে ও তালাকের বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আদৌ কাজীর মাধ্যমে বৈধভাবে প্রকৃত বিয়ে হয়েছিল কি না বা তালাক হয়েছে কি না সে সম্পর্কে কেউ বলতে পারেনি। ভুক্তভোগী পরিবারের তিন জনের চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকার কারণে তারা মেহেরপুরে ফিরলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা সম্ভব হবে।
মেহেরপুর সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রেম ছিলো শয়ন ও স্মৃতির মাঝে। কিছুদিন আগে তাদের বিয়ে হয় বলে জানা গেছে । বিয়ের কয়েকদিন পরেই দাম্পত্য কলোহের জের ধরে স্মৃতি শয়নকে তালাক দেয়। এ কারণেই এই হামলা বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরো জানান, আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তারপর হামলার আসল কারণ জানা যাবে বলেও তিনি জানান।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম