রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ঢাকার আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ বর্জ্য এবার পরিণত হতে যাচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম উৎসে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই প্রকল্পে কাজ করছে একটি চীনা কোম্পানি। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আমিনবাজারের ময়লা-আবর্জনা থেকেই উৎপাদন করা হবে ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, যা সরাসরি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।
আগামী ১৮ মাসের মধ্যে এই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর অন্যতম বড় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সমস্যা হিসেবে বিবেচিত আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের বর্জ্যকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে, অন্যদিকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে নতুন বিদ্যুৎ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এ সময় আমিনবাজারের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পসহ দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে চীনের পক্ষ থেকে সম্মতির কথা জানানো হয়।
বৈঠক শেষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের বলেন, আগামী দেড় বছরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। এই বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎস হবে রাজধানীর বর্জ্য বা ময়লা-আবর্জনা।
তিনি বলেন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে একদিকে যেমন জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হবে, তেমনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও একটি কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি হবে। আমিনবাজারে দীর্ঘদিন ধরে জমা হওয়া বর্জ্যকে ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি আগামী ২ সেপ্টেম্বর চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে চুক্তি হয়েছে। পরবর্তী ধাপে বিনিয়োগকারী ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট কোম্পানি এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে চূড়ান্ত অর্থায়ন চুক্তি সম্পন্ন হবে।
তিনি আরও জানান, শুধু আমিনবাজারের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, বাংলাদেশে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক প্রকল্পে চীনের আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মোংলা বন্দর উন্নয়নে চীন সহযোগিতা করতে আগ্রহী।
মোংলা বন্দর উন্নয়নের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে মোংলা বন্দরের সংযোগ আরও বাড়ানোর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। দেশের বন্দর অবকাঠামো শক্তিশালী করা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের ক্ষেত্রে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে বাংলাদেশ ও চীনের রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। দুই দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সফর, যোগাযোগ ও সম্পর্ক আরও বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষের আগ্রহ রয়েছে বলেও তিনি জানান।
সব মিলিয়ে আমিনবাজারের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর ময়লা-আবর্জনাকে সম্পদে রূপান্তরের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হতে পারে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ এগিয়ে গেলে আগামী দেড় বছরের মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে বর্জ্য থেকে উৎপাদিত ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম