রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানীর কাঁচাবাজারে সবজির দামে স্বস্তি নেই। বাজারে সবচেয়ে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে শিম, কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। বিপরীতে সবচেয়ে কমদামি সবজি পেঁপে, যার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। অধিকাংশ সাধারণ সবজি কিনতেও ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে কেজিপ্রতি অন্তত ৮০ টাকা।
তবে সবজির বাজারে এমন চড়া দামের বিপরীতে মাছ, মাংস ও ডিমের বাজারে চলতি সপ্তাহে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। বাজারভেদে মাছের দামে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমবেশি থাকলেও সামগ্রিকভাবে দাম আগের অবস্থাতেই রয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। দুই বাজারেই অধিকাংশ পণ্যের দামে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত পার্থক্য রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর বাজারে বেগুন, করলা, বরবটি, ঢেঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ বেশির ভাগ সাধারণ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে।
তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে শসা। সাধারণ শসা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। তবে দেশি শসার দাম আরও বেশি—কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা। বর্ষা মৌসুমেই বাজারে আসতে শুরু করা শীতের আগাম সবজি শিমের দাম সবচেয়ে বেশি। বাজারভেদে কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এই সবজি।
অন্যদিকে, সবজির বাজারে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে। প্রতি কেজি পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০ টাকায়। সবজির উচ্চমূল্যের মধ্যে ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এসেছে কাঁচা মরিচের বাজারে। কয়েক সপ্তাহ আগেও যে কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ৪০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল, সরবরাহ বাড়ায় এখন তা অনেকটাই কমে এসেছে।
বর্তমানে মানভেদে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে। বাজারে তুলনামূলক বেশি দামের সবজির মধ্যে লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙে ও করলার দাম কেজিপ্রতি ৮০ টাকা।
এ ছাড়া আকারভেদে একটি লাউ ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং কচুরমুখি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবজির বাড়তি দামে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। বাজার করতে আসা আনোয়ার হোসেন বলেন, বেগুন কিনেছি ১০০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ছোট লাউ ৬০ টাকা, এক পোয়া মরিচ কিনেছি ৩০ টাকায়। সবকিছুর দাম বেশি। আমাদের খাওয়ার মতো বাজার নাই।
ক্রেতাদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় প্রতিটি সবজির দামই এখন নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য প্রতিদিনের বাজার সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সবজির দাম বাড়ার পেছনে অতিবৃষ্টি ও আবহাওয়াজনিত কারণকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, অতিবৃষ্টির কারণে মাঠে সবজির উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়ছে।
ব্যবসায়ী রাফিত বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে সবজির দাম বাড়ছে। উৎপাদন বাড়লে সবজির দাম কম থাকে।
সবজির বাজারে অস্বস্তি থাকলেও মুরগির বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। রাজধানীর বাজারগুলোতে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা দরে। ডিমের দামও আগের উচ্চমূল্যেই রয়েছে। প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা এবং চারটি ডিম ৫০ টাকায়।
সাধারণত এক ডজন ডিম একসঙ্গে কিনলে বিক্রেতারা দুই টাকা পর্যন্ত কম রাখলেও বর্তমানে সেই সুবিধাও পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। ডিম বিক্রেতা মাসুম বলেন, এখন ফার্মের মুরগির ডিম ডজন ১৫০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। মাছের বাজারেও চলতি সপ্তাহে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। তবে বাজার, মাছের আকার এবং জীবিত বা মৃত মাছের ওপর ভিত্তি করে দামে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।
বর্তমানে তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাস ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই-কাতল ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে।
এ ছাড়া পাবদা মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি মাছের দাম ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মিগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং চাষের কই ৩০০ টাকা কেজি।
পোয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকা এবং শইল মাছ ৭০০ টাকা কেজি দরে। আকারভেদে চাষের শিং মাছের দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। মাঝারি আকারের রুই পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজিতে।
অন্যদিকে রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে হাজার টাকারও বেশি।
ব্যবসায়ীদের মতে, মাছের দাম নির্ধারণে শুধু বাজারভেদে নয়, মাছের আকার, সরবরাহ এবং জীবিত না মৃত এসব বিষয়ও প্রভাব ফেলে। তাই একই মাছের দাম একেক বাজারে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমবেশি হতে পারে।
মাছ বিক্রেতা জালাল বলেন, মাছের দাম আগের মতোই আছে। মাছের দাম নির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারবে না। দাম সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। এখন এক দাম, বিকেলে আরেক দাম। আবার মাছ বেশি আসলেও দাম কমে যায়। আবার ক্রেতা বেশি আসলেও দাম বেড়ে যায়।
সব মিলিয়ে রাজধানীর বাজারে সবজির উচ্চমূল্যই এখন ক্রেতাদের প্রধান দুশ্চিন্তার কারণ। শিমের দাম ২০০ টাকা ছুঁইছুঁই করলেও পেঁপে ৩০ টাকায় কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। অন্যদিকে মাছ, মাংস ও ডিমের দাম বড় ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই আগের উচ্চ অবস্থানে রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম