রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: নতুন আইফোন বাজারে আসার আগে থেকেই এর সম্ভাব্য ফিচার নিয়ে প্রযুক্তিপ্রেমীদের আগ্রহ থাকে। নকশা থেকে শুরু করে ক্যামেরা, প্রসেসর, ব্যাটারি ও স্টোরেজ, প্রায় প্রতিটি বিষয় নিয়েই নানা তথ্য ও গুঞ্জন সামনে আসে। এবার সেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে অ্যাপলের সম্ভাব্য নতুন ফ্ল্যাগশিপ ফোন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স।
অ্যাপল এখনো আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেনি। তবে বিভিন্ন লিক, প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিবেদন ও স্পেসিফিকেশন তালিকা থেকে ফোনটি সম্পর্কে বেশ কিছু সম্ভাব্য তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। GSMArena-ভিত্তিক তথ্যেও ৬ দশমিক ৯ ইঞ্চি ডিসপ্লে, নতুন এ২০ প্রো চিপ, ১২ জিবি র্যাম এবং সর্বোচ্চ ২ টেরাবাইট স্টোরেজের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ফোনটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হওয়ায় এসব তথ্যকে চূড়ান্ত স্পেসিফিকেশন হিসেবে নেওয়ার সুযোগ নেই। অ্যাপল শেষ পর্যন্ত কোন কোন ফিচার রাখবে, তা জানা যাবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর।
আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উন্মোচন করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে সেপ্টেম্বরের ৮ বা ৯ তারিখে নতুন প্রো মডেল উন্মোচনের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। তবে অ্যাপলের পক্ষ থেকে কোনো তারিখ ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এটি নিশ্চিত নয়।
এবার আইফোনের সব মডেল একই সময়ে বাজারে নাও আসতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইফোন ১৮ প্রো ও ১৮ প্রো ম্যাক্স আগে বাজারে আসতে পারে। অন্যদিকে সাধারণ আইফোন ১৮ মডেল পরে উন্মোচন বা বাজারজাত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
৬ দশমিক ৯ ইঞ্চির বড় ডিসপ্লে
আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে ৬ দশমিক ৯ ইঞ্চির এলটিপিও ওএলইডি ডিসপ্লে থাকতে পারে। এর রেজল্যুশন ১,৩২০ × ২,৮৬৮ পিক্সেল এবং সর্বোচ্চ ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
বড় ডিসপ্লের কারণে ফোনটিতে সিনেমা দেখা, গেম খেলা, ছবি ও ভিডিও সম্পাদনা কিংবা একসঙ্গে একাধিক কাজ করার অভিজ্ঞতা আরও ভালো হতে পারে। উচ্চ উজ্জ্বলতা ও এইচডিআর সুবিধাও থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ডিসপ্লের সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পেতে অ্যাপলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
নতুন এ২০ প্রো চিপ
আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের অন্যতম বড় পরিবর্তন হতে পারে নতুন এ২০ প্রো চিপ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই চিপ ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি হতে পারে।
উৎপাদন প্রযুক্তির এই পরিবর্তনের ফলে একই জায়গায় আরও বেশি ট্রানজিস্টর রাখা সম্ভব হতে পারে। এতে প্রসেসিং ক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবহারের দক্ষতাও উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর অর্থ হলো, নতুন চিপ শুধু ফোনের গতি বাড়াতে নয়, ব্যাটারি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
১২ জিবি র্যাম ও ২ টেরাবাইট পর্যন্ত স্টোরেজ
আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে ১২ জিবি র্যাম থাকতে পারে বলে বিভিন্ন স্পেসিফিকেশন তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। স্টোরেজের ক্ষেত্রে ২৫৬ জিবি, ৫১২ জিবি, ১ টেরাবাইট এবং সর্বোচ্চ ২ টেরাবাইট সংস্করণ আসতে পারে বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
২ টেরাবাইট স্টোরেজ থাকলে বিশেষ করে যারা নিয়মিত উচ্চ মানের ভিডিও ধারণ করেন কিংবা ফোনে বিপুল পরিমাণ ছবি, ভিডিও ও বড় ফাইল রাখেন, তাদের জন্য এটি বেশ সুবিধাজনক হতে পারে।
তবে অ্যাপল শেষ পর্যন্ত কোন কোন স্টোরেজ সংস্করণ বাজারে আনবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
ক্যামেরায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা
আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের পেছনে তিনটি ৪৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা থাকতে পারে। মূল ক্যামেরার পাশাপাশি আলট্রাওয়াইড ও টেলিফটো ক্যামেরাতেও ৪৮ মেগাপিক্সেলের সেন্সর ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা বিভিন্ন সূত্রে বলা হয়েছে।
ফোনের স্ক্রিন লকে কোনটি বেশি নিরাপদ, পিন নাকি পাসওয়ার্ড
ক্যামেরার আরেকটি আলোচিত পরিবর্তন হতে পারে পরিবর্তনশীল অ্যাপারচার। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলে ক্যামেরায় কতটা আলো প্রবেশ করবে, তা আরও নমনীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতে পারে। ফলে বিভিন্ন আলোক পরিস্থিতিতে ছবি তোলার মান উন্নত হতে পারে।
এ ছাড়া উন্নত অপটিক্যাল জুম ও ভিডিও ধারণের সুবিধা থাকার কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে ক্যামেরার চূড়ান্ত কনফিগারেশন জানতে অ্যাপলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।
বড় হতে পারে ব্যাটারি
আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে আগের মডেলের তুলনায় বড় ব্যাটারি ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে বেশ কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কিছু লিকে ব্যাটারির ধারণক্ষমতা ৫ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার-ঘণ্টার বেশি হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।
বড় ব্যাটারির সঙ্গে ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির নতুন চিপ ব্যবহার করা হলে ব্যাটারি ব্যাকআপে উন্নতি দেখা যেতে পারে। তবে শুধু ব্যাটারির ধারণক্ষমতা দেখেই ফোন কতক্ষণ চলবে, তা নির্ধারণ করা যায় না। ডিসপ্লে, প্রসেসর, সফটওয়্যার ও অন্যান্য হার্ডওয়্যার কতটা শক্তি ব্যবহার করছে, তার ওপরও ব্যাটারি ব্যাকআপ নির্ভর করে।
ছোট হতে পারে ডাইনামিক আইল্যান্ড
আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের ডাইনামিক আইল্যান্ড আগের তুলনায় ছোট হতে পারে বলেও গুঞ্জন রয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেস আইডির নির্দিষ্ট উপাদান ডিসপ্লের নিচে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলে সামনের কাটআউটের আকার কমানো যেতে পারে।
এমনটি হলে ডিসপ্লেতে ব্যবহারযোগ্য জায়গা আরও বাড়বে। তবে এই পরিবর্তন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে নিশ্চিতভাবে থাকছে কি না, তা এখনো জানা যায়নি।
অ্যাপলের নিজস্ব সি২ মডেম
নতুন আইফোনে অ্যাপলের নিজস্ব সি২ মডেম ব্যবহারের সম্ভাবনাও রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নতুন মডেমটি ৫জি সংযোগের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াতে পারে।
নিজস্ব মডেম ব্যবহারের মাধ্যমে ভবিষ্যতে মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অ্যাপল আরও বেশি নিজেদের প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করতে পারবে।
নকশায় কতটা পরিবর্তন?
আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের নকশায় আগের প্রজন্মের তুলনায় বড় পরিবর্তন নাও আসতে পারে। তবে অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেম, কাচের পেছনের অংশ এবং সিরামিক শিল্ড ধরনের সুরক্ষা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
ফোনটিতে আইপি৬৮ মানের পানি ও ধুলা প্রতিরোধের সুবিধাও থাকতে পারে। এ ছাড়া ফোনটির পুরুত্ব প্রায় ৮ দশমিক ৭৫ মিলিমিটার হতে পারে বলে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে পুরুত্ব নিয়েও বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে।
৫জি, ওয়াই-ফাই ৭সহ আধুনিক সংযোগ
আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে ৫জি, ওয়াই-ফাই ৭, ব্লুটুথ ও এনএফসি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংস্করণে ৫জি মিলিমিটার ওয়েভ এবং আন্তর্জাতিক সংস্করণে বিভিন্ন সাব-৬ গিগাহার্টজ ব্যান্ড সমর্থনের তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে।
এ ছাড়া স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগ সুবিধা আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে বাংলাদেশে এ ধরনের সুবিধা ব্যবহার করা যাবে কি না, তা স্থানীয় নেটওয়ার্ক, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ও সেবার প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করবে।
বাংলাদেশে দাম কত হতে পারে?
আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের বাংলাদেশি দাম এখনো জানা যায়নি। কারণ অ্যাপল ফোনটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে ছাড়েনি।
বিভিন্ন বাংলাদেশি প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইটে সম্ভাব্য দামের নানা হিসাব পাওয়া গেলেও সেগুলোকে নিশ্চিত দাম হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বাংলাদেশে কোনো আইফোনের চূড়ান্ত দাম নির্ভর করে আমদানি শুল্ক, কর, ডলারের বিনিময় হার, সরবরাহ এবং বিক্রেতার মুনাফাসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর।
তাই অ্যাপলের আন্তর্জাতিক দাম ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের নির্দিষ্ট দাম বলা কঠিন।
অপেক্ষা করতে হবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য
আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স এখনো বাজারে আসেনি। তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য সত্যি হলে, অ্যাপল নতুন ফোনটিতে পারফরম্যান্স, ক্যামেরা, ব্যাটারি ও ডিসপ্লেতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে পারে।
২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির এ২০ প্রো চিপ, ১২ জিবি র্যাম, সর্বোচ্চ ২ টেরাবাইট স্টোরেজ, বড় ব্যাটারি এবং উন্নত ক্যামেরা ফোনটিকে শক্তিশালী ফ্ল্যাগশিপে পরিণত করতে পারে।
তবে এগুলোর সবই এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য তথ্য। কোন ফিচার সত্যিই আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে থাকছে, ফোনটির দাম কত হবে এবং আগের মডেলের তুলনায় কতটা পরিবর্তন আসছে, সেসব জানতে অ্যাপলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করাই সবচেয়ে ভালো।
সূত্র: জিএসএম এরেনা
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম