সিনিয়র রিপোর্টার: দেউলিয়া প্রক্রিয়া থেকে রিহ্যাবিলিটেশন কার্যক্রমে সিংইয়ংজু বিশ্ববিদ্যালয়, পাওনা ফেরতে আইনি লড়াই অব্যাহত।
দক্ষিণ কোরিয়ার সিংইয়ংজু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে টিউশন ফি পরিশোধের পরও ভিসা না পাওয়া এবং পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেউলিয়া প্রক্রিয়ায় পড়ে যাওয়া ২২৫ জন শিক্ষার্থীর পাওনা অর্থ ফেরতের দাবিতে কোরিয়ার রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লেইম দাখিল করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের পক্ষে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়া অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম এবং স্থানীয় কোরিয়ান আইনজীবীর সমন্বয়ে ২৮ আগস্ট দেউগু রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টে এসব ক্লেইম দাখিল করা হয়।
এর আগে ২২৫ শিক্ষার্থীর পক্ষে দেউলিয়া আদালতের কার্যক্রমে পৃথকভাবে পাওনা অর্থের দাবি দাখিলের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংগ্রহ, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি এবং অন্যান্য আইনগত কাগজপত্রও প্রস্তুত করা হয়।
তবে ২৫ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেউলিয়া কার্যক্রমের পরিবর্তে রিহ্যাবিলিটেশন কার্যক্রমের জন্য দেউগু রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টে আবেদন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের পর্যাপ্ত সম্পদ রয়েছে এবং সম্পদ ব্যবহার বা বিক্রয়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পুনর্গঠন করে পরিচালনা করা সম্ভব। আদালত আবেদন গ্রহণ করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়টি রিহ্যাবিলিটেশন কার্যক্রমের অধীনে চলে যায়।
ফলে শিক্ষার্থীদের পক্ষে নিয়োজিত কোরিয়ান আইনজীবী পরামর্শ দেন, আগের দেউলিয়া কার্যক্রমে নতুন করে ক্লেইম দাখিলের পরিবর্তে রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টে সরাসরি শিক্ষার্থীদের পাওনা অর্থের দাবি দাখিল করাই অধিক উপযুক্ত হবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য ২৭ আগস্ট অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম বাংলাদেশ দূতাবাসে যান। তার সঙ্গে ছিলেন সংশ্লিষ্ট WeCare Education Consultancy-এর Manager জাহিদ হাসান। তারা দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান আইনগত পরিস্থিতি, দেউলিয়া কার্যক্রম থেকে রিহ্যাবিলিটেশন কার্যক্রমে পরিবর্তন এবং শিক্ষার্থীদের পাওনা অর্থ ফেরতের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি পর্যালোচনা করে বর্তমান পরিস্থিতিতে রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টেই শিক্ষার্থীদের ক্লেইম দাখিল করার পরামর্শ দেন বলে জানা গেছে।
এরপর কোরিয়ান আইনজীবীর সঙ্গে সমন্বয় করে পূর্বে প্রস্তুত করা ডকুমেন্ট ও ক্লেইমগুলো রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টের প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংশোধন ও পুনঃপ্রস্তুত করা হয়।
২৮ আগস্ট, শুক্রবার, আলহামদুলিল্লাহ, ২২৫ শিক্ষার্থীর পাশাপাশি আরও ১৮ জন শিক্ষার্থীর পক্ষেও ক্লেইম দাখিল সম্পন্ন হয়েছে। ফলে একই প্রক্রিয়ায় মোট ২৪৩ জন শিক্ষার্থীর পাওনা অর্থের দাবি রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
জানা গেছে, ক্লেইম ফাইলিংয়ের কার্যক্রম অনলাইনভিত্তিক হলেও আদালতের প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ৫ সেট হার্ড কপি প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি দাখিল করা সম্পূর্ণ ক্লেইমের একটি পূর্ণাঙ্গ কপি সংরক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় সরবরাহ করা হয়েছে।
আইনজীবীদের মতে, এখন বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার আদালতের নির্ধারিত রিহ্যাবিলিটেশন প্রক্রিয়ার অধীনে থাকবে। আদালত শিক্ষার্থীদের দাখিল করা ক্লেইম পর্যালোচনা করবে এবং পরবর্তী সময়ে শুনানি ও অন্যান্য বিচারিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।
শিক্ষার্থীদের পক্ষে নিয়োজিত কোরিয়ান আইনজীবী নিয়মিতভাবে আদালতের শুনানি ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবেন এবং আদালতের নির্ধারিত আইন ও পদ্ধতি অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের বৈধ পাওনা অর্থ ফেরতের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর একাধিক ধরনের ঋণ ও আর্থিক দায় রয়েছে। রিহ্যাবিলিটেশন কার্যক্রমে বিভিন্ন শ্রেণির creditors-এর দাবি আইন এবং আদালত অনুমোদিত অগ্রাধিকার অনুযায়ী বিবেচিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অন্যান্য পাওনাদারদের পূর্বের বকেয়া ও আর্থিক দাবিও রয়েছে।
এ কারণে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের পক্ষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ আদালতে ক্লেইম দাখিল করাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমানে ২৪৩ জন শিক্ষার্থীর ক্লেইম আনুষ্ঠানিকভাবে রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টের সামনে দাখিল করা হয়েছে। এখন আদালতের নির্ধারিত প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রেখে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
তিনি বলেন, “আমরা কোনোভাবেই আদালতের নির্ধারিত প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে যেতে পারব না। আইন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বৈধ পাওনা আদায়ের জন্য আমরা সর্বোচ্চ আইনগত সহযোগিতা করে যাব। আদালতের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জানানো হবে।”
অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের অর্থ ফেরতের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট WeCare Education Consultancy এবং বাংলাদেশ থেকে দায়িত্ব পালনকারী প্রতিনিধিরাও সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছেন। কোরিয়ান আইনজীবীর সঙ্গে সমন্বয় করে পুরো প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের ক্লেইম যথাযথভাবে আদালতে দাখিল হওয়ায় এখন তাদের বৈধ পাওনা অর্থ ফেরতের দাবিটি আনুষ্ঠানিকভাবে রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টের বিবেচনার মধ্যে এসেছে। তবে অর্থ ফেরতের চূড়ান্ত বিষয়টি আদালতের সিদ্ধান্ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ, অন্যান্য creditors-এর দাবি এবং আইনগত অগ্রাধিকারের ওপর নির্ভর করবে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি সংশ্লিষ্টদের আহ্বান—আদালতের প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হতে পারে। তাই ধৈর্য ধারণ করে আইনগত প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রাখা এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে উদ্বিগ্ন না হওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে।
আলহামদুলিল্লাহ, ২৪৩ জন শিক্ষার্থীর পক্ষে ক্লেইম দাখিলের গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি সম্পন্ন হয়েছে। এখন লক্ষ্য—আইন ও আদালতের নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য পাওনা অর্থ ফেরত নিশ্চিত করা।
রিপোর্টার্স২৪/এআইএম/ধ্রুব