ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় সাবেক স্ত্রীকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারুফ নামের এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় মারুফের মামা আব্দুল লতিফ বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। গতকাল শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটে উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বিহারীপাড়া এলাকায়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আব্দুল লতিফের মেয়ে কিরন মালার সঙ্গে ২০১৪ সালে রকি নামের এক ব্যক্তির বিয়ে হয়। তাঁদের দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, রকি প্রায়ই নেশা করে বাড়ি ফিরে কিরন মালাকে শারীরিক নির্যাতন করতেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় ও পারিবারিকভাবে সালিস হলেও তাঁর আচরণের পরিবর্তন হয়নি। পরে গত ২০ জুলাই কিরন মালা রকিকে তালাক দেন এবং বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
এজাহারে বলা হয়, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রকি আব্দুল লতিফের বাড়িতে ঢুকে তাঁর মেয়ে কিরন মালাকে জোর করে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে আব্দুল লতিফ বাধা দিলে রকি বাড়িতে গিয়ে অন্যদের ডেকে আনেন। পরে তাঁরা ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আবার ওই বাড়িতে ঢুকে গালিগালাজ করতে থাকেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় ওয়াজেদ আলী নামের এক ব্যক্তি অন্যদের মারধরের নির্দেশ দেন। এরপর রকি হাতে থাকা ধারালো খুর দিয়ে মারুফের মাথায় আঘাত করেন। মারুফ মাথা সরিয়ে নিলে আঘাতটি তাঁর বাঁ কাঁধের পেছনে লাগে। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। পরে কয়েকজন তাঁকে মারধর করেন এবং মুন্না নামের এক ব্যক্তি তাঁর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মারুফকে রক্ষা করতে আব্দুল লতিফ এগিয়ে গেলে তাঁকেও লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে এগিয়ে এলে তাঁদের শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও এজাহারে অভিযোগ রয়েছে।
পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে আহত মারুফকে একটি অটোরিকশায় করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৬, ৩০৭, ৩৫৪, ৫০৬ ও ১১৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব