নিজস্ব প্রতিবেদক: মাদরাসা শিক্ষার দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা দূর করার পাশাপাশি সময়ের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় ওলামা পরিষদের নেতারা। তাঁরা বলেছেন, মাদরাসা শিক্ষার স্বকীয়তা ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখেই শিক্ষার্থীদের সমসাময়িক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘বাংলাদেশে মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার রোধে করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। জাতীয় ওলামা পরিষদ এ বৈঠকের আয়োজন করে।
বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে মাদরাসা শিক্ষার ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে। কোনো ব্যক্তির নৈতিক বিচ্যুতি কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ত্রুটির দায় পুরো মাদরাসা শিক্ষা এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়।
মাদরাসা শিক্ষা নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণার সমালোচনা করে তিনি বলেন, কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের ওপর ভিত্তি করে পুরো একটি শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করা উচিত নয়। তবে মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে ওঠা সমালোচনাকে একেবারে উপেক্ষা না করে নিজেদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা দূর করার ওপরও গুরুত্ব দেন বক্তারা।
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে অপপ্রচার মোকাবিলার পাশাপাশি আত্মসমালোচনা ও অভ্যন্তরীণ সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের আধুনিক বিশ্বের উপযোগী করে গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা জরুরি।
তিনি বলেন, আরবি ভাষার ব্যবহারিক চর্চার পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজি শিক্ষার মান বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা শিক্ষা শেষে কর্মক্ষেত্রেও নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে।
কোনো মাদরাসায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পর্যবেক্ষণ সেল এবং হটলাইন চালুর প্রস্তাব দেন ড. আহমদ আবদুল কাদের। পাশাপাশি মাদরাসা শিক্ষা নিয়ে অপপ্রচার মোকাবিলায় কওমি বোর্ডের অধীনে ফ্যাক্ট-চেকিং ইউনিট গঠন এবং আইনগত সহায়তার জন্য প্যানেল গঠনের কথাও বলেন তিনি।
বৈঠকে কওমি সনদের স্বীকৃতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন ও কার্যকর বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। সরকারি বিভিন্ন ক্ষেত্রে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্য দূর করে তাঁদের যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে নিয়োগ ও পদায়নের দাবি জানান বক্তারা।
এ ছাড়া দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ধর্মীয় শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করে সেখানে আলেমদের নিয়োগ এবং শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার সুযোগ আরও বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।
জাতীয় ওলামা পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সদস্যসচিব মাওলানা ফারুক আহমদ ভূঁইয়া। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মাওলানা সাইফ উদ্দিন আহম্মদ খন্দকার।
বৈঠকে শায়খুল হাদিস শেখ আজিম উদ্দিন, ড. মাওলানা ঈশা শাহেদী, মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান, এহতেশামুল হক নোমানী, ড. মুহাম্মদ সারোয়ার হোসেন, শেখ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল, ড. মুস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, মুফতি আবদুল্লাহ ইয়াহিয়াসহ আলেম, শিক্ষাবিদ ও ছাত্রনেতারা বক্তব্য দেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম