রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মতামতের ভিত্তিতে একটি যুগোপযোগী কোম্পানি আইন বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, কোম্পানি আইন ১৯৯৪ সালে প্রণয়ন করা হয়েছিল।
এরপর দুই দফা সংশোধন হয়েছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন ও অনলাইন মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদানের মতো বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আইনটি আরও যুগোপযোগী করা প্রয়োজন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে কোম্পানি আইন-১৯৯৪-এর খসড়া সংশোধনী নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের প্রস্তুতির প্রসঙ্গ টেনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন বছরে সরকারকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। কোম্পানি আইন সংশোধন সেই বৃহৎ কর্মপরিকল্পনার একটি অংশ।
সভায় জানানো হয়, আইনটির আধুনিকায়ন ও বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে পাঁচটি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এগুলো হলো-ব্যবসা পরিচালনা সহজ করা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সুযোগ তৈরি, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) আইনি ভিত্তি দেওয়া এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
কোম্পানি আইন সংশোধনের আগে বেসরকারি খাতের সঙ্গে মতবিনিময়কে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশের সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, অতীতে বেসরকারি খাতের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
সভার আলোচনায় আরজেএসসির অতিরিক্ত নিবন্ধক মো. নূর-ই-আলম বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি আরজেএসসির বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। শুধু আইন সংশোধন করলেই হবে না।
অনলাইনে আরজেএসসিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর। তিনি আরজেএসসির কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব বাড়ানোর পরামর্শও দেন।
এ সময় খাতভিত্তিক অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মূল্যায়ন ও প্রস্তাব জানানোর জন্য আরও ৩০ দিন সময় দেওয়ার আহ্বান জানান ব্যবসায়ী নেতারা।
এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে কোম্পানি আইন অনেক সময় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সংশ্লিষ্টদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, খসড়া সংশোধনী পর্যালোচনা করে মতামত দেওয়ার জন্য যুক্তিসঙ্গত সময় দেওয়া হবে। দ্রুত মতামত দিয়ে কার্যকর ও ব্যবসাবান্ধব আইন প্রণয়নে সহযোগিতা করতে ব্যবসায়ী নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ, বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, এমসিসিআইয়ের সভাপতি কামরান টি. রহমানসহ বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম