স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর উত্তরায় রেলের জমিতে অবৈধ বাজার বসিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিক মো. সাইফুল ইসলাম একাকে প্রাণনাশ ও ক্ষয়ক্ষতির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে তুরাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।
জিডি সূত্রে জানা যায়, দৈনিক তৃতীয় মাত্রা পত্রিকার সিটি রিপোর্টার মো. সাইফুল ইসলাম একা গত ১০ সেপ্টেম্বর উত্তরার আজমপুর রেললাইন এলাকায় রেলের জমিতে অবৈধ বাজার বসিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকের অভিযোগ, সংবাদটি প্রকাশের পর একই দিন রাত ৮টা ১৬ মিনিটে ওই বাজারের কথিত সভাপতি হাফিজ এবং চাঁদা উত্তোলনকারী হিসেবে পরিচিত রাজু নামের এক ব্যক্তি ০১৮২৩-৮৬৭০৭০ নম্বর থেকে তাকে ফোন করেন। এ সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি সংবাদ প্রকাশের কারণ জানতে চাওয়া হয়।
জিডিতে সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম একা অভিযোগ করেন, ফোনে তাকে বলা হয়, “নিউজ করলি কেন? চাঁদাবাজির নিউজ করছিস? বেশি বাড়াবাড়ি করলে মাটি দিয়ে দিব। তোকে উত্তরায় যেখানে পাবো, কবর দিয়ে দিব।”
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি প্রকাশ করে তাকে ‘চাঁদাবাজ’ ও ‘ভুয়া সাংবাদিক’ আখ্যা দিয়ে মানহানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একইসঙ্গে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ক্ষয়ক্ষতির হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
ঘটনার পর নিজেকে ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত উল্লেখ করে গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তুরাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম একা। জিডি নম্বর—৭৬৫।
সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম একা বলেন, “সত্য সংবাদ প্রকাশ করায় হুমকির শিকার হয়েছি। প্রশাসনের কাছে আমার ও আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই।”
এ বিষয়ে উত্তরা প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস আলী বলেন, “সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একজন সাংবাদিক কোনো অনিয়ম, চাঁদাবাজি বা অপরাধের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো কিংবা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়। এতে শুধু একজন সাংবাদিক নয়, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও হুমকির মুখে পড়ে।”
তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম একাকে যেভাবে হুমকি ও গালিগালাজ করা হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হেয় করার অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একইসঙ্গে সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
ইদ্রিস আলী বলেন, “সাংবাদিকরা যদি সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তাহলে সমাজে অনিয়ম ও অপরাধের বিরুদ্ধে কথা বলার পরিবেশ নষ্ট হবে। তাই সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা, হুমকি কিংবা হয়রানির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।”
এ বিষয়ে তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে অভিযোগে অভিযুক্ত হাফিজ ও রাজুর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব