আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি: স্কলারস অ্যাট রিস্ক (এসএআর)-এর ‘অ্যাকাডেমিক ফ্রিডম মনিটরিং প্রজেক্ট’-এর বার্ষিক সমীক্ষা অনুসারে, ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৩০ জুন ২০২৬-এর মধ্যে বিশ্বজুড়ে ৫৯টি দেশ ও অঞ্চলের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে ৩৮২টি আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। ভারত সহ অন্তত পাঁচটি দেশে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সহিংস দমনপীড়নের কথা এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এসএআর-এর ‘ফ্রি টু থিংক ২০২৬’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের সহিংস দমন পীড়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনে সরকারের হস্তক্ষেপই বিশ্বে অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতা হ্রাসের প্রধান কারণ। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন (ওএইচসিএইচআর) শিক্ষায় অধিকারের ওপর জোর দিলেও, বাস্তবে বহু দেশে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাঁদের বাকস্বাধীনতা ও অ্যাকাডেমিক অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
১৬টি দেশের ক্যাম্পাসে সহিংস হামলা ও দখলের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেদনে ভারত, ইরান, সার্বিয়া, সেনেগাল এবং ইন্দোনেশিয়ায় সরাসরি দমনপীড়নের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি চীন, রাশিয়া ও আফগানিস্তানে শিক্ষাবিদদের গ্রেপ্তার ও কারাদণ্ড এবং পাকিস্তানে বলুচ শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, আফগানিস্তান এবং ভারতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, পাঠ্যক্রম এবং শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের প্রবণতা বাড়ছে। একাডেমিক ফ্রিডম ইনডেক্স (এএফআই)-এ ভারতের পয়েন্ট ২০২৪ সালের ০.১৬ থেকে কমে ২০২৬ সালে ০.১৪-এ নেমে এসেছে, যাকে ‘মারাত্মকভাবে নিয়ন্ত্রিত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে কেন্দ্র সরকারের ইউজিসি-র ব্যবহার, দিল্লিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান বাতিল, টিআইএসএস ও জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়াতে বিক্ষোভ দমনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণপন্থী এবিভিপি এবং বামপন্থী এআইএসএ ও মধ্যপন্থী এনএসইউআই-এর মধ্যে রাজনৈতিক সংঘর্ষের কথাও এতে বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতা ২০২৫ সালে কমে ০.৪-এ নেমেছে।
সেখানে পাঠ্যক্রম সেন্সরশিপ ও গবেষণায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটছে। ইরানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতা ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত’ পর্যায়ে রয়েছে। আফগানিস্তানেও পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তবে ব্রাজিলে লুই ইনাসিও লুলা দা সিলভার সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবং বাংলাদেশে ২০২৪-এর ছাত্র আন্দোলনের পর অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। হাঙ্গেরি ও ভেনেজুয়েলাতেও কিছু ইতিবাচক লক্ষণ দেখা গেছে। এসএআর-এর নির্বাহী পরিচালক রবার্ট কুইন জোর দিয়ে বলেছেন যে, গণতন্ত্র ও স্বাধীন চিন্তার সুরক্ষায় উচ্চশিক্ষার স্বাধীনতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব