ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয়ের পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে জুয়া খেলার ঘটনায় জড়িত পলাতক পিবিআই কনস্টেবল মো. শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে বুধবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এতে এ ঘটনায় মোট গ্রেপ্তারকৃত পুলিশ সদস্যের সংখ্যা দাঁড়াল ৫ জনে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃত সকল সদস্যকে পুলিশের শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. বেলাল হোসেন।
বুধবার দুপুর ১টার দিকে নিজ কার্যালয়ে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ প্রধান। সাক্ষাৎকারে কঠোর আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি ও দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরেন তিনি।
বিভাগীয় ব্যবস্থার বিষয়ে এসপি বেলাল হোসেন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কোনো পুলিশ সদস্য ফৌজদারি অপরাধে গ্রেপ্তার বা আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া সদস্যদের বিরুদ্ধেও এই আদেশ কার্যকর হচ্ছে। থানায় নিয়মিত ফৌজদারি মামলার তদন্তের পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা গঠন করা হবে এবং একজন আলাদা তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত বিভাগীয় প্রসিডিংস আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করা যায় না।
অভিযান চালাতে গিয়ে সহকর্মীদের ধাক্কাধাক্কিতে ডান হাতের আঙুল ভেঙে গুরুতর আহত হন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জুয়েল রানা। তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে এসপি জানান, জুয়েল রানার আঙুলের হাড় ভেঙে গেছে, যা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। ডাক্তার তাঁকে আইনিভাবে বিশ্রামে (মেডিকেল রেস্ট) থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। হাতে ব্যান্ডেজ থাকায় আপাতত তিনি দাপ্তরিক দায়িত্বে যোগ দিতে পারছেন না, তাই তাঁকে ছুটি প্রদান করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া আলামত ও ৪টি মোটরসাইকেলের (যার মধ্যে দুটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন) বিষয়ে এসপি জানান, এসবই বর্তমানে ফৌজদারি মামলার তদন্তের অংশ। জব্দকৃত একাধিক মোবাইল ফোন কার কার এবং এগুলো কীভাবে ব্যবহৃত হতো—তা তদন্ত কর্মকর্তা খতিয়ে দেখছেন। আসামিদের রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়টিকে সম্পূর্ণ তদন্ত কর্মকর্তার এখতিয়ার বলে জানান তিনি।
নিজের অধীনস্থ বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেপথ্যের মানসিক যন্ত্রণার কথা জানিয়ে এসপি বেলাল হোসেন বলেন, "আমি আমার প্রতিটি অফিসার ও ফোর্সকে নিজের সন্তানের মতো মনে করি। যখন ওদের পরিবার এসে আমার সামনে কান্নাকাটি করে, তখন পরিবেশটা বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে, আমারও খারাপ লাগে। কিন্তু পেশাগত জায়গায় দাঁড়িয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা আমার মূল দায়িত্ব। সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে আমরা ধরব, আর নিজেদের লোক বলে ছেড়ে দেব—এটা হতে পারে না।"
তিনি আরও যোগ করেন, "অভিযানের সময় তারা যদি নিয়ম মেনে দাঁড়াত, তবে হয়তো শৃঙ্খলা ভঙ্গের ছোটখাটো বিভাগীয় শাস্তি দিয়ে সংশোধন করা যেত। কিন্তু বাধা দেওয়া ও কর্মকর্তা আহত করার মাধ্যমে তারা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ করেছে। তাই নিরপেক্ষভাবে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া আমার আর কোনো বিকল্প ছিল না।"
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব