আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি: ওয়াশিংটন রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জোরদার করা এবং রাশিয়ান তেল ক্রয়কারী দেশগুলির ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত মার্কিন শুল্ক আরোপের বিল পাশ করায় বড় ধরণের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পড়েছে ভারত।
বিগত চার বছর ধরে ইউক্রেন যুদ্ধের সুযোগে সাশ্রয়ী দামে রাশিয়ান অশোধিত তেল আমদানি করে নিজেদের জ্বালানি খরচ কমালেও, নতুন মার্কিন আইনের কারণে দিল্লির বিপুল মার্কিন রপ্তানি বাজার এখন সরাসরি হুমকির মুখে। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে পাশ হওয়া 'স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট ২০২৬' ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাশিয়ান তেল ক্রেতাদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিয়েছে।
'সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার' (সিআরইএ)-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের আগস্টের মধ্যে রাশিয়ার মোট তেল রপ্তানির ৩৭ শতাংশ এসেছে ভারতে। 'গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ' (জিটিআরআই)-এর হিসাব মতে, ২০২৬ অর্থবছরে ভারতের ১৩৪.৭ বিলিয়ন ডলারের তেল আমদানি বিলের মধ্যে ৪০.৮ বিলিয়ন ডলারই (৩০.৩%) ছিল রাশিয়ান তেল।
এমনকি জুলাই মাসে ভারতের তেলের চাহিদার অর্ধেকেরও বেশি একাই জুগিয়েছে মস্কো, যা সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ভেনিজুয়েলা, ব্রাজিল, ওমান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্মিলিত জোগানের চেয়েও বেশি। নতুন মার্কিন আইনের আওতায় রাশিয়ার ওপর থেকে নির্ভরতা কমাতে সাধারণত ১৮০ দিন সময় পাওয়া গেলেও প্রেসিডেন্ট চাইলে এই মেয়াদ সংকুচিত করতে পারেন।
পরিস্থিতি পর্যালোচনার কথা জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে, ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের অগ্রাধিকার এবং ভারত বিভিন্ন উৎস থেকে বাজারদর অনুযায়ী তেল কেনা অব্যাহত রাখবে। ভারতীয় আধিকারিকরা ওয়াশিংটনকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, সাশ্রয়ী মূল্যে তেল কেনা যুদ্ধের জন্য অর্থায়ন নয়, বরং এটি বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রাখছে।
বর্তমানে রাশিয়ান তেলের ওপর প্রাথমিক আমলের মতো ছাড় মিলছে না, অন্যদিকে বিকল্প পথ থেকে তেল আনা হলে পরিবহন ও বিমা খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে। তবে ভারতের বড় ভয় মার্কিন শুল্কের সরাসরি ধাক্কা নিয়ে। আমেরিকা রাশিয়ান তেলের ওপর কর না বসিয়ে মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক বসালে রুপি, রপ্তানি বাণিজ্য এবং শোধনাগারগুলির মুনাফায় মারাত্মক ধস নামবে।
২০২৫ সালে ভারত আমেরিকায় প্রায় ১০৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য (মূলত ইলেকট্রনিক্স, ওষুধ, যন্ত্রপাতি ও বস্ত্র) রপ্তানি করেছে। এর আগে ২০২৫ সালে ট্রাম্পের চাপানো ৫০ শতাংশ শুল্কের চাপ সামলাতে হওয়া দিল্লির সামনে এবার প্রশ্ন—রাশিয়ান তেলের সাশ্রয় কি মার্কিন রপ্তানি বাজারের বিশাল ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারবে? উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের সাথে সমন্বয় রেখে ভারতীয় রিফাইনারিগুলি ইতিমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, কানাডা ও আফ্রিকা থেকে তেল আমদানির চেষ্টা জোরদার করেছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব