রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: প্রথম দফার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিতে বাদ পড়া শিশুদের টিকার আওতায় আনতে দেশব্যাপী দ্বিতীয় দফায় হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ এই টিকাদান কর্মসূচি চলবে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তির টিএনটি খেলার মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দফার এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের পর নিয়মিত চার বছর পরপর পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও এমআর টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ ছিল। এর ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
তিনি বলেন, “ভাগ্যক্রমে কিংবা দুর্ভাগ্যবশত, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর ওই চার বছরের খেসারত আমাদের ওপর এসে পড়েছে। আমাদের জাতিকে, আমাদের মায়েদের অনেক কষ্ট পেতে হয়েছে, অনেক মায়ের বুক খালি হয়ে গেছে। এ জন্য আমি সত্যিই ব্যথিত।”
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন মহামারি ও সংকটকালীন পরিস্থিতিতে দেশের চিকিৎসকেরা অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশের চিকিৎসকদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা আমাদের ডাক্তারদের কাছে ঋণী।”
করোনাভাইরাস মহামারির সময় চিকিৎসকদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, করোনাকালে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ ও প্রতিবেশী দেশের তুলনায় বাংলাদেশে মৃত্যুহার তুলনামূলক কম ছিল। দেশের চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং শতাধিক চিকিৎসকের আত্মত্যাগের কারণে এটি সম্ভব হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, পুষ্টিহীনতায় ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে হাম থেকে নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে মৃত্যুঝুঁকিও বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশীয় চিকিৎসকদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও সেবারও প্রশংসা করেন তিনি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ এমআর টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। ওই কর্মসূচিতে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছিল।
তবে পরবর্তী সময়ে গত ২৮ জুন জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে একই বয়সসীমার প্রায় ২ কোটি ২৩ লাখ শিশু অংশ নেয়। দুই কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী শিশুর সংখ্যার পার্থক্য বিশ্লেষণ করে প্রায় ৪৩ লাখ শিশু এমআর টিকার আওতার বাইরে থাকার বিষয়টি শনাক্ত হয়।
টিকার বাইরে থাকা এসব শিশুকে সুরক্ষার আওতায় আনতেই দ্বিতীয় দফার বিশেষ এমআর টিকাদান কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাদ পড়া শিশুদের টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাম ও রুবেলার সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকাদানের আওতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিশুদের টিকাদান সম্পন্ন করতে দেশব্যাপী সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও টিকাদান কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় করে এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম