ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন এবং নিজ বাড়িতে আত্মহত্যায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ঘটনাগুলোতে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় সড়ক পরিবহন আইনে দুটি মামলা এবং একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার দুপুরে গরু কেনার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন সদর উপজেলার ১০ নম্বর জামালপুর ইউনিয়নের পূর্ব পারপূগী গ্রামের কাপড়ের ফেরিওয়ালা সাদেকুল ইসলাম (৪৯)। দুপুর সোয়া একটার দিকে তিনি রহিমানপুর ইউনিয়নের মাদারগঞ্জ গরু হাটের সামনে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় শিবগঞ্জ থেকে ঠাকুরগাঁও রোডগামী একটি বেপরোয়া অজ্ঞাতনামা অটোরিকশা তাঁকে সজোরে ধাক্কা দেয়। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর দুইটার দিকে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে রায়হান আলী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।
এর আগে গতকাল শুক্রবার রাত আটটার দিকে ঠাকুরগাঁও-বালিয়াডাঙ্গী আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবাডাঙ্গী লক্ষ্মীপুর বাজার এলাকায় আরেকটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। নেকমরদ থেকে ঠাকুরগাঁওগামী একটি যাত্রীবাহী লেগুনা (পাগলু) বেপরোয়া গতিতে যাওয়ার সময় সিগন্যাল ছাড়া ঘুরতে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা খায়। এতে রানীশংকৈল উপজেলার আলশিয়া গ্রামের মোজাফ্ফর আলী (৭৪) মারাত্মক আহত হন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে নেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোরে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে হযরত আলী বাদী হয়ে মামলা করেছেন।
অন্যদিকে, আজ সকাল পৌনে বারোটার দিকে সদর উপজেলার ১ নম্বর গড়েয়া ইউনিয়নের আরাজী মাটিগাড়া গ্রামে প্রতীক চন্দ্র রায় (২১) নামের এক তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্বজনরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। সকালে নাস্তা শেষে নিজ শয়নকক্ষে গিয়ে বাঁশের শরের সঙ্গে মায়ের ওড়না পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় নিহতের চাচা রমেশ চন্দ্র রায় থানায় অপমৃত্যুর সংবাদ দিয়েছেন।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহজাহান আলী জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে পৃথক দুটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। অটোরিকশা ও ট্রাক চালকদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা রুজু করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব