চাঁদপুর প্রতিনিধি: ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে চাঁদপুরে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কাজে লাগিয়ে জেলার পর্যটন সম্ভাবনাকে দেশ-বিদেশে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও প্রচার-প্রচারণার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে শহরে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। এনডিসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ ইকবাল এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল হুদা যৌথভাবে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, বর্তমান বিশ্বে পর্যটন খাত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার পর্যটন ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, সহজ ও কার্যকর করে তুলতে পারে। পর্যটনকেন্দ্রের তথ্য, যাতায়াত ব্যবস্থা, আবাসন, খাবার, দর্শনীয় স্থান ও পর্যটকদের প্রয়োজনীয় সেবা সম্পর্কে দ্রুত তথ্য পৌঁছে দিতে প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে চাঁদপুরের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে পর্যটকদের জন্য তথ্যভিত্তিক ও সহজসেবা নিশ্চিত করা গেলে জেলার পর্যটন খাত আরও সমৃদ্ধ হবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, চাঁদপুরের রয়েছে নদী, চর, ইলিশ, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যসহ পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা। পরিকল্পিতভাবে এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে চাঁদপুরকে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এ জন্য আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটকদের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং কার্যকর প্রচার-প্রচারণার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক একরামুল ছিদ্দিক এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নাদিরা নূর।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, সদর উপজেলা পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রফিকুল ইসলাম ফয়সাল, প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি আলম পলাশ এবং নাগরিক টিভির জেলা প্রতিনিধি রানা রহমান।
বক্তারা বলেন, পর্যটকদের কাছে কোনো এলাকার আকর্ষণ তুলে ধরতে এখন শুধু প্রচলিত প্রচার-প্রচারণার ওপর নির্ভর করলে চলবে না। ডিজিটাল কনটেন্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন তথ্যভান্ডার ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াত, থাকার ব্যবস্থা, খাবার, নিরাপত্তা ও দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সহজে পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।
তাঁরা বলেন, চাঁদপুরের নদী ও চরাঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইলিশকেন্দ্রিক ঐতিহ্য, ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনা এবং স্থানীয় সংস্কৃতিকে সমন্বিতভাবে পর্যটন প্যাকেজের আওতায় আনা যেতে পারে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়তে পারে।
আলোচনা সভায় রিসোর্ট মালিক, সমাজসেবক, পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ