কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ায় দুই যুবককে অস্ত্র দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ তুলে ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। একই সাথে আটক দুই জনের নিঃশর্ত মুক্তি এবং এই ঘটনার পেছনের মূল ষড়যন্ত্রকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি করেছেন তারা।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, কুমারখালী উপজেলার শালঘর মধুয়া গ্রামের আরিফুল ইসলাম আরিফ (২৮) এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার দুর্বাচারা গ্রামের রাহান আলীর ছেলে মো. আব্দুল্লাহ (২৮)।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের আব্দুর রাজ্জাক মিলনায়তনের এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গ্রেফতারকৃত মো. আব্দুল্লাহর স্ত্রী মিথিলা খাতুন।
মিথিলা খাতুনের অভিযোগ, কুষ্টিয়া ডিবি পুলিশের এসআই রকিব উদ্দিন জনি চরমপন্থী লিপটন ও টাইগার মামুনের ইন্ধনে তাদের আটক করে ২ টি পিস্তল ও ১৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধারের মিথ্যা মামলা দিয়েছে। তিনি দাবী করেন, ডিবি পুলিশের এসআই রকিব উদ্দিন জনি যখন আরিফ ও আব্দুল্লাহকে আটক করেন, তখন তাদের কাছে কোনো প্রকার অস্ত্র ছিল না। আটকের সময় উপস্থিত জনসাধারণের বাধার মুখে পুলিশ কোনো অস্ত্র দেখাতে পারেনি, যার ভিডিও ফুটেজও সংরক্ষিত আছে বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে মিথিলা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, দুর্বাচারা গ্রামের শীর্ষ চরমপন্থী দূর্বৃত্ব জাহাঙ্গীর কবির লিপটন এবং দরবেশপুর গ্রামের ছোট চোর টাইগার মামুনের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের শত্রুতা চলছে। এই লিপটন ও টাইগার মামুনের ইন্ধনেই ডিবি পুলিশ দিয়ে তাদের স্বামীদের বাজার থেকে তুলে নিয়ে অস্ত্র মামলায় চালান দেয়।
তিনি আরও বলেন, লিপটন ও টাইগার মামুন বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলেও প্রশাষনের দাপট দেখিয়ে এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। তারা মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করতো এবং টাকা না দিলে অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দিতো। বর্তমানেও এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা জামিনে আত্মগোপনে থেকে প্রশাসনকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে এবং বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নির্দোষ আরিফ ও আব্দুল্লাহর অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরিফ ও আব্দুল্লাহ’র পরিবারের সদস্যসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগন উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম