রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি অর্জন করলেই কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়া সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন বাস্তবমুখী শিক্ষা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও ভাষাগত দক্ষতা। দেশের তরুণদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে এ কথা বলেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে। এ জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি ইংরেজিতে যোগাযোগের সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন জরুরি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে (ইউল্যাব) অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ইউল্যাব-টেসলবিডি আন্তর্জাতিক ইএসপি (ইংলিশ ফর স্পেসিফিক পারপাস) কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। টেসলবিডি ও ইউল্যাব যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে দেশের তরুণ সমাজকে দক্ষ, কর্মক্ষম ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা আবশ্যক।
বিশ্বায়ন ও আধুনিক কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল কিংবা সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। তাদের এমন দক্ষতা অর্জন করতে হবে, যা বাস্তব কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখতে সহায়তা করবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষায় যোগাযোগের দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং বাস্তব সমস্যার সমাধান করার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে তরুণদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ইংরেজি শেখার সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত ইংরেজি শিক্ষা ও চর্চায় এখনো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
শ্রেণিকক্ষে মুখস্থনির্ভর পড়াশোনার পরিবর্তে ভাষার ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং যোগাযোগের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যথাযথ দিকনির্দেশনা দিতে শিক্ষকদেরও ভাষাগত দক্ষতা উন্নয়নে মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।
তিনি মনে করেন, ভাষা শেখার মূল উদ্দেশ্য শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বর অর্জন নয়; বরং বাস্তব জীবনে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করা, জ্ঞান অর্জন এবং পেশাগত কাজে সেই জ্ঞান প্রয়োগ করতে পারা।
আন্তর্জাতিক গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি ও পেশাগত তথ্যের বড় একটি অংশ ইংরেজিতে প্রকাশিত হয় উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভাষাগত দুর্বলতার কারণে অনেক সময় মেধাবী শিক্ষার্থীরাও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরতে পারেন না।
তবে ইংরেজি শেখার পাশাপাশি মাতৃভাষায় জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত পরিভাষা সহজলভ্য করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এতে শিক্ষার্থীরা নিজ ভাষায় জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরেও নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগাতে পারবেন।
দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে যথাযথ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতায় গড়ে তুলতে পারলে তারা জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেন ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, তরুণদের অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রেখে উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা জরুরি। এ জন্য তাদের সম্মানজনক কর্মসংস্থান, স্থিতিশীল আয়ের সুযোগ এবং উদ্যোক্তা হওয়ার পথ সুগম করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মমুখী শিক্ষা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা বিকাশের ওপরও গুরুত্ব দেন। তার মতে, শিক্ষার্থীদের এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে তারা পরিবর্তনশীল কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেন এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারেন।
ইউল্যাবের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামসাদ মর্তুজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব, রিয়েলি ইংলিশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নাইজেল কিলিক এবং বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হক।
সম্মেলনে ইংরেজি ভাষা শিক্ষা, কর্মক্ষেত্রে ভাষাগত দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা এবং শিক্ষার্থীদের পেশাগত জীবনের জন্য প্রস্তুত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম