টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে উৎকর্ষ সাধনের অঙ্গীকার নিয়ে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) উদযাপিত হতে যাচ্ছে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬। দিবসটি উপলক্ষে চাকরি মেলা, গবেষণা পুরস্কার বিতরণ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অনুষ্ঠান সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য—‘শিক্ষা ও গবেষণায় উৎকর্ষ সাধন, উদ্ভাবন, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা জোরদার করা’।
সকালে আনন্দ শোভাযাত্রা ও চাকরি মেলা
কর্মসূচির প্রথম পর্ব শুরু হবে সকাল ১০টায়। এ সময় ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা ও কেক কাটার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে শুরু হবে ‘মাভাবিপ্রবি ক্যারিয়ার ও চাকরি মেলা-২০২৬’।
এ মেলায় চাকরিপ্রার্থী শিক্ষার্থীরা দেশের শীর্ষস্থানীয় নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, পেশাগত নেটওয়ার্কিং এবং তাৎক্ষণিক নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ক্যারিয়ারবিষয়ক বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতি থাকবে।
এ পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু এমপি। বিশেষ অতিথি থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ আলী এবং আরপি ক্রিয়েশন অ্যান্ড অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিতোষ চন্দ্র পাল।
গবেষণা উৎকর্ষ পুরস্কার ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে বিকেল ৩টায়। ‘রিসার্চ এক্সিলেন্স অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপস’ শীর্ষক এ আয়োজনে শিক্ষাঙ্গন ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে গবেষণাভিত্তিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এ পর্বে প্রধান অতিথি থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ড. এএনএম এহসানুল হক মিলন এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু এমপি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক, ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এবং বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত করতে একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। পাশাপাশি গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের জন্য মনোনীত ৩০ জন শিক্ষক ও ১৯ জন শিক্ষার্থীকে ‘রিসার্চ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হবে। এ ছাড়া পাঁচ শিশুকে দেওয়া হবে ‘ইউনিভার্সিটি কমিউনিটি চিল্ড্রেনস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’।
সন্ধ্যায় নজরুল-সন্ধ্যা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
দিনব্যাপী আয়োজনের শেষ পর্ব শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টায়। ‘নজরুল-সন্ধ্যা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান’ শীর্ষক এ আয়োজনে প্রধান অতিথি থাকবেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া।
সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি পর্বে সভাপতিত্ব করবেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেবেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান।
১৫টি উপকমিটি গঠন
আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬ সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিমকে সদস্যসচিব করে ১৫টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম নিয়মিত এসব কমিটির কার্যক্রম তদারকি করছেন। সমন্বিত উদ্যোগে স্মরণীয় একটি আয়োজন উপহার দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানগুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরতে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং আলোকচিত্রীদের দিনব্যাপী আয়োজনে উপস্থিত থেকে সংবাদ সংগ্রহের আমন্ত্রণ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
১৯৯৯ সালের ১২ অক্টোবর টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ২০০১ সালের ১২ জুলাই জাতীয় সংসদে ‘মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০১’ পাস হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৩ সালের ২৫ অক্টোবর সিইসি ও আইসিটি—এই দুটি বিভাগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব