বগুড়া প্রতিনিধি: চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সার্বিক ফল বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে বগুড়াতেও। তবে এ পরিস্থিতিতেও জেলার বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য কলেজ পাসের হারে নিজেদের সাফল্য ধরে রেখেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৯৮ থেকে ১০০ শতাংশের মধ্যে থাকলেও আগের বছরগুলোর তুলনায় কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা। অন্যদিকে জেলার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বগুড়ায় শতভাগ পাসের তালিকায় রয়েছে মিলেনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বিএএফ শাহীন কলেজ। মিলেনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৭৬ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছেন। তাঁদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৬ জন। অন্যদিকে বিএএফ শাহীন কলেজের ৮০ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করলেও কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাননি।
জেলার কলেজগুলোর মধ্যে ফলাফলে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে সরকারি আজিজুল হক কলেজ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১ হাজার ৪৭১ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ১ হাজার ৪৫৫ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। বগুড়া জেলায় মোট ১ হাজার ৩০৯টি জিপিএ-৫-এর মধ্যে ৭৪৭টিই পেয়েছেন এ কলেজের শিক্ষার্থীরা।
ফলাফল নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে কলেজটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মাহফুজুল ইসলাম বলেন, তাঁরা আরও ভালো ফলাফল আশা করেছিলেন। তবে অর্জিত ফলে তাঁরা সন্তুষ্ট। আগামীতে ফলাফল আরও উন্নত করতে চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
শহরের অন্যান্য শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল ও কলেজের ৪২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৪২০ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৮২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৪ জন। বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের ৬৬৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৬৫৭ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৪ জন।
এ ছাড়া বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজের ২৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৩৬ জন পাস করেছেন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪১ জন।
বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজের বিভাগভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগে ১৪০ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছেন। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৩ জন। মানবিক বিভাগে ৭২ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৭১ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছেন আটজন। অন্যদিকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ২৫ জন। এ বিভাগে কেউ জিপিএ-৫ পাননি।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এবার পরীক্ষা গ্রহণ ও খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি ছিল এবং যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। জিপিএ-৫ কমলেও পাসের হারে তাঁরা সন্তুষ্ট। আগামীতে ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের মূল পাঠ্যবই খুঁটিয়ে পড়ার পরামর্শ দেন তিনি।
অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পুলিশ লাইন্স স্কুল ও কলেজের ২৯৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ২৮৩ জন। পাসের হার ৯৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন চারজন। আরডিএ ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজের ২৬১ জনের মধ্যে পাস করেছেন ২৪৭ জন। পাসের হার ৯৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৭ জন।
বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজের ১৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২৯ জন পাস করেছেন। পাসের হার ৯২ দশমিক ১৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১১ জন। অন্যদিকে বগুড়া সরকারি কলেজের ৭৭২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৬৯৪ জন। পাসের হার ৮৯ দশমিক ৯০ শতাংশ। এ কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১০৭ জন।
তবে তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে সরকারি মজিবর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজ ও সরকারি শাহ সুলতান কলেজ। সরকারি মজিবর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজের ১ হাজার ৪৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১ হাজার ১৮৭ জন। পাসের হার ৮১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৬ জন।
অন্যদিকে সরকারি শাহ সুলতান কলেজের ১ হাজার ৩৯৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৯৭৮ জন। পাসের হার ৬৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। এ কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৪ জন।
পাঁচ প্রতিষ্ঠানে শতভাগ অকৃতকার্য
জেলার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবার কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—গাবতলী উপজেলার তছলিম উদ্দিন তরফদার কলেজ ও বাগবাড়ি মডেল মহিলা কলেজ, ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি মহিলা কলেজ এবং কাহালু উপজেলার দুর্গাপুর আইডিয়াল মহিলা কলেজ ও আল্লামার তাকিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
এর মধ্যে তছলিম উদ্দিন তরফদার কলেজের ৪৬ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। বাগবাড়ি মডেল মহিলা কলেজ থেকে তিনজন পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেননি। গোসাইবাড়ি মহিলা কলেজ ও দুর্গাপুর আইডিয়াল মহিলা কলেজ থেকে দুজন করে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। আর আল্লামার তাকিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে একজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করতে পারেননি।
সার্বিক ফলাফল ও মূল্যায়ন প্রসঙ্গে বগুড়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী আকন্দ বলেন, এবার সারা দেশেই পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে। তাঁর মতে, এবারের ফলাফল পরীক্ষার্থীদের প্রকৃত মূল্যায়ন তুলে ধরেছে। আগামী দিনের পরীক্ষার্থীদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া উচিত।
সব মিলিয়ে, সামগ্রিক ফলাফলে হতাশা থাকলেও বগুড়ার শীর্ষস্থানীয় কলেজগুলো পাসের হারে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে জিপিএ-৫ কমে যাওয়া এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনা জেলার শিক্ষার মান ও প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে ভাবনার অবকাশ তৈরি করেছে।
রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ