চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার চাটমোহর উপজেলায় সার সিন্ডিকেটের হাতে সাধারণ কৃষক জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অসাধু কিছু সার ব্যবসায়ী বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একইসাথে কোন ডিলার সারের মূল্য তালিকা না টাঙিয়ে ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন। রোপা আমন মৌসুমের শুরু থেকেই কতিপয় অসাধু ডিলার সার মজুত করে বেশি দামে বিক্রি করছেন মর্মে অভিযোগ। সামনে রবিশস্য মৌসুমে সারের সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চাটমোহর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় বিএনপি নেতৃবৃন্দসহ অন্যরা এই অভিযোগ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, সার মজুত করে কতিপয় ডিলার কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে। ফলে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়েও সার পাচ্ছেন না সাধারণ কৃষক। ফলে জমি পতিত রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকেই কালোবাজারিতে সার বিক্রি করে দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, কৃষকের প্রয়োজন নেই এমন সার না নিলে প্রয়োজনীয় সার দেওয়া হচ্ছে না। বক্তারা প্রতিকার দাবি করেন।
সারের অনিয়ম ও সিন্ডিকেট নিয়ে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা রবিউল করিম তারেক, শাহাদত হোসেন, মজনুর রহমান, অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম কালু, জামায়াতে ইসলামির নেতা আসাদুজ্জামান মিঞা, ছাত্রদলের উপজেলা আহবায়ক ফুলচাদ হোসেন শামীম প্রমুখ।
অভিযোগে জানা গেছে, এ উপজেলার নিমাইচড়ার মির্জাপুর, মূলগ্রামের রেলবাজার, ডিবি গ্রামের বামনগ্রাম বাজার ও ফৈলজানার শরৎগঞ্জ বাজারের ডিলার সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ও গোডাউনে সার মজুত রেখে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন। কৃষকের জন্য বরাদ্দকৃত সার বাজারে না দিয়ে গুদামে মজুত করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে এসকল ডিলারের বিরুদ্ধে।
তবে বেশি দাম দিলেই মিলছে সার। এরমধ্যে চাটমোহর রেলবাজার এলাকার বিসিআইসি ডিলার আব্দুস সালাম সরকার, ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের বামনগ্রাম বাজারের মাসুদ ও মোহাম্মদ আলী, শরৎগঞ্জ বাজারের ইউনুস আলী ও মির্জাপুরের একজন ডিলার রয়েছেন। এসকল সার বিক্রেতা তাদের একাধিক গুদামে শত শত বস্তা ডিএপি, পটাশ, এমওপি, ইউরিয়া সার মজুত করে এলাকায় সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, সারের সরকারি মূল্য ইউরিয়া ১ হাজার ৩৫০ টাকা বস্তা, ডিএপি ১ হাজার ৫০ টাকা, টিএসপি ১ হাজার ৩৫০ টাকা ও পটাশ ১ হাজার টাকা বস্তা। চাটমোহর উপজেলায় বিসিআইসি ডিলার রয়েছে ১২ জন, বিএডিসি ডিলার রয়েছে ১৭ জন এবং খুচরা সার বিক্রেতা রয়েছে ৬৯ জন। এদের মধ্যে অধিকাংশই সরকারি দামের চেয়ে অধিক দামে সার বিক্রি করছেন। এতে করে কৃষকের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চাটমোহর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ৭৬০ হক্টর, আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমি। চলতি অক্টোবর মাসে চাটমোহরে ইউরিয়া সার ৪৬৫ মে.টন, ডিএপি সার ৫৪০ মে.টন, টিএসপি সার ১৫০ মে.টন এবং পটাশ সার ২৮৫ মে.টন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
একাধিক সূত্র জানায়, সরকারি বা বরাদ্দকৃত সার ছাড়াও এ সকল ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে থেকে কালোবাজারে সার কিনে গুদামজাত করছেন। তারা কৃষকদের কাছে সরবরাহ কমিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বেশি দামে বিক্রি করছেন। একজন খুচরা সার বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ডিলাররা সরকারি দামের চেয়েও বস্তা প্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দাম নিচ্ছেন, ফলে বিভিন্ন বাজারের খুচরা সার বিক্রেতারা সার পাচ্ছেন না।
চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কুন্তলা ঘোষ বলেন, বেশি দামে সার বিক্রির কোন সুযোগ নেই। সার্বক্ষনিক মনিটরিং করা হচ্ছে, অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের সার বিক্রির বিষয়টি উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের দিয়ে মনিটরিং করছেন বলে জানান।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপজেলার নবাগত নির্বাহী অফিসার খালিদ হাসান বলেন, প্রতিটি সার বিক্রেতাকে মূল্য তালিকা টাঙাতেই হবে। সারের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি সুষমভাবে বন্টনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি অভিযোগ পেলেই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব