রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানীর মিরপুরে সকাল থেকে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করা পোশাকশ্রমিকদের সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে পুলিশ। আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরাতে সাউন্ড গ্রেনেড ও বাঁশি ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম। তবে এ ঘটনায় কোনো লাঠিচার্জ করা হয়নি এবং কাউকে আটকও করা হয়নি বলে দাবি পুলিশের।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে মিরপুরে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এসব তথ্য জানান ডিএমপির এই কর্মকর্তা।
মহিদুল ইসলাম বলেন, পোশাকশ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের জন্য ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এখন মজুরি বোর্ডের মাধ্যমেই এ বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বিষয়টি শ্রমিকদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু এরপরও তারা সড়ক ছাড়তে রাজি হচ্ছিলেন না।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের কাছে মনে হয়েছে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারবিরোধী কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চক্র যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে। এ কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের নিয়ে সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ডিএমপির এই যুগ্ম কমিশনার বলেন, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতেই পুলিশ এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এ সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে। তবে শ্রমিকদের ওপর কোনো ধরনের লাঠিচার্জ করা হয়নি। কাউকে আটক করা হয়নি। পুলিশের কোনো সদস্যও আহত হননি।
এদিকে আন্দোলন চলাকালে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং তাদের মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও ওঠে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহিদুল ইসলাম বলেন, সড়ক পরিষ্কারের সময় পুলিশ ওই এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ দিয়েছিল। এ সময় কারও মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকলে তা উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো অন্যায় হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, বর্তমানে মিরপুরের সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এর আগে, ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রোববার সকাল থেকেই মিরপুরের ১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। সকাল ৯টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে অবরোধের মধ্য দিয়ে আন্দোলন শুরু হয়। পরে মিরপুর ১১, ১২ ও প্রশিকা মোড় এলাকায়ও শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ এসব সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।
একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় মিরপুর ১১ নম্বর এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, একই দাবিতে আগের দিন শনিবারও মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। টানা দুই দিনের আন্দোলনে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় যান চলাচল ও জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়ে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম