বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ায় দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। একসময় রাজধানী ঢাকা থেকে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকলেও এখন শহরের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। প্রতিদিনই নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় বাড়ছে উদ্বেগ। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ হাজার ৭৫৭ জন। তাঁদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৯৯ জন।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বগুড়ার বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ২৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে ১ হাজার ৬৬৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া দুজনই শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
বর্তমানে জেলার হাসপাতালগুলোর মধ্যে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি ৩১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ছাড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ১৭ জন, টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৫ জন, ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫ জন, শেরপুরে পাঁচজন, গাবতলীতে চারজন, সোনাতলায় একজন এবং নন্দীগ্রামে একজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বগুড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গুর বিস্তার বাড়ছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন এলাকায় রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। তবে উপসর্গের তীব্রতা কম থাকায় অনেকে হাসপাতালে না গিয়ে বাসায় কিংবা বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ফলে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
এদিকে, ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন বলেন, সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। মশা নিধনে প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত পরিমাণে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে মাইকিং করা হচ্ছে এবং নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ব্যানার টানানো হয়েছে। নগরী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে নাগরিকদের বারবার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গুর কবল থেকে নিজেদের ও নগরবাসীকে রক্ষা করতে প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসাবাড়ির আশপাশ এবং ছাদে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নাগরিকদের সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ফারজানুল ইসলাম বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। রোগীরা ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন। পাশাপাশি জনসাধারণকে সচেতন করতে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ