রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ পর্যন্ত সংঘর্ষে শিল্প পুলিশের প্রায় ৫০ জন সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর পর্যন্ত শতাধিক পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে দেওয়ান পাম্পের পাশে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি জানান, শিল্পাঞ্চলের বেশির ভাগ কারখানায় এখনো উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। তবে কিছু এলাকায় উত্তেজনা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে কারখানার কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
শ্রমিক আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন শিল্প পুলিশের এই কর্মকর্তা। তার দাবি, সাধারণ শ্রমিকদের একটি বড় অংশ কাজে যোগ দিতে আগ্রহী। কিন্তু বহিরাগত কিছু লোকের ইন্ধনে একটি পক্ষ প্রতিদিন সকালে কাজে যোগ দিতে আসা শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে কারখানা থেকে বের করে আনার চেষ্টা করছে।
শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিল্প পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে জানিয়ে এসপি বলেন, শ্রমিকরা যাতে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে কাজ করতে পারেন, সে জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে কিছু কারখানার শ্রমিকদের কাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে পুলিশ বল প্রয়োগ করছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা সঠিক নয়।
শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রেও পুলিশ সহযোগিতা করছে বলে জানান তিনি। উদাহরণ হিসেবে একটি কারখানার মালিকের বিরুদ্ধে চার মাসের বেতন বকেয়া রেখে আত্মগোপনে থাকার ঘটনা তুলে ধরেন এসপি। তিনি বলেন, পরে ওই মালিককে আটক করে আশুলিয়া থানার মাধ্যমে শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ঘটনায় শ্রমিকেরা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া আরও বলেন, ‘আমরা শুধু শ্রমিকদের সুষ্ঠুভাবে কাজের পরিবেশ বজায় রাখার জন্য দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু কিছু লোকের ইন্ধনে শ্রমিকদের একটি অংশ কারখানা থেকে বেরিয়ে এসে পুলিশের ওপর এবং অন্য কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার্থে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা তাদের ছত্রভঙ্গ করি। আমরা কোনোভাবেই শ্রমিকদের প্রতিপক্ষ নই।’
সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও শিল্প পুলিশ শ্রমিকদের পাশে থেকে কাজ করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
কারখানা বন্ধের বিষয়ে শিল্প পুলিশ সুপার জানান, তার আওতাধীন আট শতাধিক কারখানার মধ্যে শতাধিক কারখানা বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে নরসিংহপুর, নিশ্চিন্তপুর ও জিরাবো এলাকার কয়েকটি কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে সাভারের অন্যান্য এলাকার অধিকাংশ কারখানায় স্বাভাবিকভাবে কাজ চলছে। কিছু প্রতিষ্ঠানে সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার দুপুরের পর কয়েকজন কারখানার মালিক ফোন করে প্রতিষ্ঠান চালু করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা চেয়েছেন। তাদের পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মালিকদের কারখানা খুলে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার বিষয়ে এসপি বলেন, এ পর্যন্ত শিল্প পুলিশের প্রায় ৫০ জন সদস্য আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত সোমবারই আহত হয়েছেন প্রায় ২০ জন। মঙ্গলবারও একজন পুলিশ সদস্যের মাথায় ইটের আঘাত লাগে। এতে তার মাথায় চারটি সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে তাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।
শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিল্প পুলিশ কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম