রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দিচ্ছে সরকার। আগামী ২ ও ৩ ডিসেম্বর এসব শিসব শিক্ষার্থীর সম্পূরক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে ২৩ ডিসেম্বর। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে এ তথ্য জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
রাজধানীর মাতুয়াইল এলাকায় শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় শিক্ষামন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। তার এ ঘোষণায় চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
এদিকে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, গত দুই দশকের মধ্যে এবারই পাসের হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে। গত বছর ২০২৫ সালে এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। সে হিসাবে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা বেশি। এবার ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন ছাত্রী পাস করেছেন। ছাত্রীদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। অন্যদিকে, ছাত্রদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন। তাদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও এবার শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমেছে। চলতি বছর মোট ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। তাদের মধ্যে ২০ হাজার ৩৬৩ জন ছাত্র এবং ১৯ হাজার ৭২১ জন ছাত্রী।
এবারের ফলাফলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে শূন্য পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও। দেশের মোট ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২০২টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৯১টি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ২ জুলাই। লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল ৮ আগস্ট। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো নেওয়া হলে ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।
এবারের ফলাফলে পাসের হার কমে যাওয়ায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূরক পরীক্ষার ঘোষণা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। আগামী ২ ও ৩ ডিসেম্বরের পরীক্ষার মাধ্যমে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা পুনরায় উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ পাবেন। আর ২৩ ডিসেম্বর ফল প্রকাশের মধ্য দিয়ে এ প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম