ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে বিস্ফোরণের শব্দে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত কেশম দ্বীপসহ দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় এসব বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও এর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের ঘটনাগুলোর সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক তৎপরতার সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে এসব এলাকায় কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি ইরানি কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে শোনা বিস্ফোরণের শব্দের সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কোনো সম্পর্ক নেই। ফলে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
এদিকে, রোববার ভোরে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় মাইনে আঘাত লেগে দুটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে যায়। জাহাজ দুটি অনুমোদনহীন পথে চলাচলের চেষ্টা করছিল বলে দাবি করেছে ইরানের এই সামরিক বাহিনী।
তবে দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় শোনা বিস্ফোরণের সঙ্গে তেলবাহী জাহাজ দুটিতে আগুন লাগার ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই হামলা ছিল সীমিত পরিসরের। তবে এর মাধ্যমে বড় ধরনের কোনো সামরিক অভিযান নতুন করে শুরু করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
সব মিলিয়ে কেশম দ্বীপে নতুন করে বিস্ফোরণের শব্দ, হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী দুটি জাহাজে আগুন এবং ইরানের সামরিক তৎপরতা ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম