রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজনীতিকে অপছন্দ করলেই এর প্রভাব থেকে দূরে থাকা সম্ভব নয়। বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের ইতিবাচক পরিবর্তন নিশ্চিত করতে তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে আগ্রহী ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হান্নান মাসউদ। তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আই হেট পলিটিক্স’ মানসিকতা পরিহার করে ‘আই লাভ পলিটিক্স’ ধারণায় এগিয়ে আসতে হবে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। একই অনুষ্ঠানে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা’ শীর্ষক কার্যক্রমে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন মিলনায়তনে জাতীয় ছাত্রশক্তির নোবিপ্রবি শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
রাজনীতির সঙ্গে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গভীর সম্পর্ক তুলে ধরে হান্নান মাসউদ বলেন, রাজনীতি পছন্দ না করলেই কেউ রাজনীতির প্রভাবমুক্ত থাকতে পারেন না। কারণ, মানুষের জীবনযাত্রা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম থেকে শুরু করে পরিবেশ ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা—সবকিছুর সঙ্গেই রাজনীতির প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা রাজনীতি পছন্দ করি না বললেই রাজনীতি থেকে দূরে থাকা যায় না। একটি শহরের বাতাস দূষিত হবে, নাকি বিশুদ্ধ থাকবে, চালের দাম ৩০ টাকা হবে, নাকি ৬০ টাকা হবে এসব সিদ্ধান্তও রাজনীতিবিদেরা নেন।’
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রজন্মকে রাজনীতি থেকে দূরে থাকার মানসিকতায় অভ্যস্ত করে তোলা হয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে। ভালো ও যোগ্য মানুষ রাজনীতি থেকে নিজেদের সরিয়ে নিলে সেই শূন্যস্থান দখল করার সুযোগ পায় অসৎ ও অপরাধী ব্যক্তিরা। ফলে রাজনীতিতে সৎ, দায়িত্বশীল ও জনকল্যাণমুখী মানুষের অংশগ্রহণ আরও বেশি প্রয়োজন।
তবে রাজনীতিসচেতন হওয়ার অর্থ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল কিংবা ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া নয় বলে স্পষ্ট করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, ছাত্রশক্তি, ছাত্রশিবির, ছাত্রদল কিংবা অন্য কোনো সংগঠনের সদস্য না হয়েও একজন শিক্ষার্থী রাজনৈতিকভাবে সচেতন হতে পারেন। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, রাষ্ট্র পরিচালনা, নাগরিক অধিকার ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সচেতন থাকাই গুরুত্বপূর্ণ।
নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন হান্নান মাসউদ। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর প্রথম ছয় মাস থেকে এক বছর একজন শিক্ষার্থীর জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়টিই ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি গড়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে শুধু আনন্দ-উল্লাস ও বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পড়াশোনা, জ্ঞানচর্চা এবং নিজেকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর প্রথম ছয় মাস থেকে এক বছর শিক্ষার্থীদের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন মানেই শুধু আনন্দ-উল্লাস নয়, পড়াশোনায়ও মনোযোগী হতে হবে।’
এ সময় শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি। হান্নান মাসউদ বলেন, শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও প্রয়োজনের সময়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি, জাতীয় ছাত্রশক্তি এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করবেন।
বক্তব্যে নোয়াখালীর মানুষের আতিথেয়তা ও অতিথিপরায়ণতার বিষয়টিও স্মরণ করেন হান্নান মাসউদ। তিনি বলেন, অতীতে নোবিপ্রবি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করার সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী নোয়াখালীতে আসতেন। তখন স্থানীয় বাসিন্দারা শিক্ষার্থীদের নিজেদের বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করতেন এবং আন্তরিকভাবে আপ্যায়ন করতেন। ফলে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা অনেক শিক্ষার্থীকেই আবাসনের জন্য হোটেলের ওপর নির্ভর করতে হতো না।
তিনি আরও বলেন, গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সেই আন্তরিক যোগাযোগ ও আতিথেয়তার সুযোগ অনেকটাই কমে গেছে। এতে স্থানীয় মানুষ ও দূরদূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা আগের মতো পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্য বিনিময়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানোর পাশাপাশি তাদের শিক্ষাজীবন, রাজনৈতিক সচেতনতা এবং ভবিষ্যৎ নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন তিনি।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম