রিপোর্টার্স ডেস্ক: ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি আগামী ৩০ আগস্ট প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফরে আসছেন। এটি হবে তাঁর প্রথম ঢাকা সফর এবং অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কোনো ইউরোপীয় রাষ্ট্রপ্রধানের বাংলাদেশ সফর। এ সফরকে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সফরকে ঘিরে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সফরে বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শ্রম অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে।
এই সফরে দুই দেশের মধ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক (গড়ট) ও বাণিজ্য চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতালি বিশেষ করে পোশাকশিল্প, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী।
এছাড়া শ্রম অভিবাসন ইস্যুতেও আলাপ-আলোচনার বিষয় তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। জানা গেছে, ইতালি আগামী তিন বছরে প্রায় পাঁচ লাখ বিদেশি কর্মী নেবে, এবং বাংলাদেশ চাইছে, এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ যেন বাংলাদেশি শ্রমিক হয়। এ বিষয়েও চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
গত মে মাসে ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাতেও পিয়ান্তেদোসি ঢাকা সফর করেন। সে সময়ই প্রধানমন্ত্রী মেলোনির সফর নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয় এবং এরপর থেকেই সফরের প্রস্তুতি শুরু হয়। সেই আলোচনারই ধারাবাহিকতায় এবার ঢাকা আসছেন প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর বাংলাদেশ-ইতালি সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। কেবল রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক, শ্রমবাজার ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী হবে। বিশেষ করে রোমে অবস্থানরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি অভিবাসী এবং ইতালিতে নতুন শ্রমবাজার উন্মোচনের সম্ভাবনাকে সামনে রেখে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/আরএইচ