আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি : ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (পূর্বতন টুইটার) ভারত সরকারের দাবিকে সরাসরি খণ্ডন করেছে।
রয়টার্স এবং রয়টার্স ওয়ার্ল্ড-এর অ্যাকাউন্ট ভারতে ব্লক করার বিষয়ে সরকারের বক্তব্যের বিপরীতে এক্স দাবি করেছে, ৩ জুলাই ভারতে ২,৩৫৫টি অ্যাকাউন্ট ব্লক করার নির্দেশ পেয়েছিল তারা, যার মধ্যে রয়টার্সের অ্যাকাউন্টগুলোও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
রোববার ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, “রয়টার্সের হ্যান্ডেল ব্লক করার কোনও সরকারি নির্দেশ নেই। আমরা এক্স -এর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে সমস্যাটির সমাধানে কাজ করছি।”
অথচ এক্স -এর তরফ থেকে মঙ্গলবার (৮ জুলাই) এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৯এ ধারা অনুযায়ী ভারতের সরকার এক ঘণ্টার মধ্যে নির্দেশ কার্যকর করার জন্য চাপ দিয়েছিল, এবং এ নির্দেশে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
শনিবার রাতে ভারতে রয়টার্স এবং রয়টার্স ওয়ার্ল্ডের অ্যাকাউন্ট দুটি ব্লক করে এক্স , যেখানে লেখা ছিল, “ভারতের একটি আইনি দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাকাউন্টটি ভারতে স্থগিত করা হয়েছে।” এক্স -এর গ্লোবাল গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স হ্যান্ডেল থেকে প্রকাশিত পোস্টে বলা হয়েছে, “ভারতের সরকারের নির্দেশে ৩ জুলাই ২,৩৫৫টি অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়, যার মধ্যে রয়টার্সের মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও ছিল। নির্দেশ মানতে ব্যর্থ হলে আমাদের ভারতীয় কর্মীদের কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানার ঝুঁকি ছিল।
জনগণের প্রতিবাদের পর, সরকার রয়টার্স ও রয়টার্স ওয়ার্ল্ড অ্যাকাউন্ট পুনরায় চালু করতে বলে।”এক্স আরও বলেছে, “ভারতে সংবাদ মাধ্যমের উপর চলমান সেন্সরশিপ নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা আইনি পথ অনুসন্ধান করছি, যদিও ভারতের আইন আমাদের পক্ষে এসব নির্বাহী আদেশ চ্যালেঞ্জ করাকে কঠিন করে তোলে। আমরা প্রভাবিত ব্যবহারকারীদের আদালতের মাধ্যমে আইনি সহায়তা নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।” তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেনি।
এর আগে মন্ত্রকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, মে মাসের গোড়ার দিকে পরিচালিত অপারেশন সিন্ধুর সময় রয়টার্স কিছু পোস্ট করেছিল, যার ভিত্তিতে সরকার এক্স -কে ব্লকিং নির্দেশ পাঠায়। তবে তখন এক্স এ বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।
অপারেশন সিন্ধুর চলাকালীন ভারত সরকার এক্স-সহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্ট এবং কনটেন্ট ব্লক করার নির্দেশ দেয়। সরকারের মতে, এসব পোস্ট ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়াচ্ছিল এবং সশস্ত্র বাহিনীর অভিযানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারত। পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহভাজন একাধিক অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি বিবিসি উর্দু এবং আউটলুক ইন্ডিয়া-র এক্স অ্যাকাউন্টও তখন সাময়িকভাবে ব্লক করা হয়, যা পরে প্রত্যাহার করা হয়।
গত ৯ মে এক্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, ভারত সরকারের কাছ থেকে তারা ৮,০০০-র বেশি অ্যাকাউন্ট ব্লক করার নির্বাহী আদেশ পেয়েছে, যার মধ্যে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও পরিচিত এক্স ব্যবহারকারীরাও ছিলেন। তারা জানায়, আদেশ না মানলে প্ল্যাটফর্মটি মোটা অঙ্কের জরিমানা ও স্থানীয় কর্মীদের কারাদণ্ডের ঝুঁকিতে পড়তে পারত।
এই ঘটনা ফের একবার ভারতের তথ্যসংক্রান্ত আইন এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কার্যকলাপের উপর সরকারের হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে।
রিপোর্টার্স২৪/আরএইচ