ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভূল্লী থানার সিঙ্গিয়া হাজীপাড়া গ্রামের এক কলেজছাত্রকে অপহরণ করে হোটেল কক্ষে আটকে রেখে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। ঘটনার পর পুলিশি অভিযানে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. আমির হোসেন বোদা পাথরাজ কলেজের ডিগ্রি ৩য় বর্ষের ছাত্র। তার মা মোছা. আমেনা বেগম ভূল্লী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করলে পুলিশ অভিযান চালায়।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুলাই দুপুরে আমির হোসেন বন্ধুর বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। বিকেল ২টা ২০ মিনিটে খলিশাকুড়ি গ্রামের একটি গোডাউনের সামনে পৌঁছালে একটি প্রাইভেট কারে করে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর দিনাজপুর শহরের বাহাদুরবাজার এলাকার একটি হোটেলের ৩১৪ নম্বর কক্ষে তাকে আটকে রাখা হয়।
পরদিন সকালে অপহরণকারীরা আমির হোসেনের মায়ের মোবাইলে ফোন দিয়ে পরিচয় গোপন না রেখে জানায় “আপনার ছেলে আমাদের হেফাজতে আছে। ৫০ হাজার টাকা নগদে না দিলে তার লাশ পেয়ে যাবেন।” পরবর্তীতে ভিন্ন নম্বর ব্যবহার করে একাধিকবার মুক্তিপণের দাবি জানায় চক্রটি।
সংশ্লিষ্ট ফোনালাপ রেকর্ড করে থানায় জমা দেন আমেনা বেগম। এরপর পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার সহযোগিতায় হোটেলে অভিযান চালায় এবং ৪ জুলাই দুপুরে অপহৃত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে। সেখান থেকে চক্রের দুই সদস্য মো. হানিফুজ্জামান মুন ও মো. রেহান ইসলাম সাকিব কে গ্রেপ্তার করা হয়।
ভূল্লী থানার এসআই সেকেন্দার আলী জানান, “গ্রেপ্তারকৃতরা সংঘবদ্ধ অপহরণচক্রের সদস্য। তারা তরুণ শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে অপহরণ করে, পরে সমকামিতায় বাধ্য করে সেই ভিডিও ধারণ করে। এরপর তা ফাঁসের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করে থাকে।”
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভূল্লী থানায় অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলাটি রেকর্ড হয়েছে ৫ জুলাই।
রিপোর্টার্স২৪/আরএইচ