গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় তালাক দেওয়ার পরও তা গোপন রেখে সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক এবং প্রতারণার অভিযোগে এক স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারী।
অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) কাপাসিয়ার সোনারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং উপজেলার উত্তর খামের গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মেজবাহ উদ্দিনের ছেলে।
ভুক্তভোগী নারী গাজীপুরের বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাকারিয়া জাহিদ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালের অক্টোবর মাসে জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে হয়। তাঁদের তিন সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে স্বামী প্রায়ই যৌতুকের দাবিতে মারধর ও মানসিক নির্যাতন করতেন। ফলে ২০২২ সালের জুলাইয়ে নারী নির্যাতন ও যৌতুক নিরোধ আইনে আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগী।
এরপর জাহাঙ্গীর আলম উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেন এবং ২০২২ সালের মার্চে গোপনে স্ত্রীকে তালাক দেন। কিন্তু তালাকের কোনো নোটিশ না দিয়ে ওই নারীকে নিজের বাড়িতে রেখে স্ত্রী হিসেবে দাম্পত্য সম্পর্ক চালিয়ে যান এবং জুন পর্যন্ত যৌথ বসবাস করেন।
এই সময়েই অভিযুক্ত শিক্ষক এনজিও ‘গাক’ থেকে ঋণ নিতে গিয়ে নিজেকে আবারও স্বামী পরিচয়ে পরিচয় দেন এবং ভুক্তভোগীকে ব্যবহার করেন। একই বছরের সেপ্টেম্বরে আদালতে জামিনের আবেদন করতে গিয়ে তিনি তালাক সংক্রান্ত কাগজপত্র দাখিল করলে ভুক্তভোগী প্রথমবারের মতো তালাকের বিষয়টি জানতে পারেন।
ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, "আমি বিশ্বাস করেছিলাম সে হয়তো পরকীয়ার পথ থেকে ফিরে এসেছে। কিন্তু সে পরিকল্পিতভাবে আমাকে তালাক দিয়ে গোপনে স্ত্রী হিসেবে ব্যবহার করে এবং ধর্ষণ করে।"
অভিযোগ আরও আছে, এই সময়ের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলম আরও পাঁচটি বিয়ে করেছেন।
শিক্ষকের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড জানাজানি হলে ২০২৪ সালের ২৪ মে স্কুলের প্রধান শিক্ষক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে তাকে সাময়িক বরখাস্ত এবং বিভাগীয় মামলার সুপারিশ করেন।
কাপাসিয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ২৫ মে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো চিঠিতে লেখেন, অভিযুক্ত শিক্ষক সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর ৩(খ) ধারার পরিপন্থী আচরণ করেছেন। ছাত্রছাত্রীরাও তার কাছে নিরাপদ নয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
গাজীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদ ভূঁইয়া বলেন, “অভিযোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে।”
.
রিপোর্টাস২৪/এস