প্রিন্ট এর তারিখঃ | বঙ্গাব্দ || প্রকাশের তারিখঃ 19-07-2025 ইং
সংবাদ শিরোনামঃ সন্তান জন্মের ২৪ ঘণ্টা আগে নয়তলা থেকে পড়ে বাবার মৃত্যু
নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার পূর্বচরবাটা ইউনিয়নের চরলাঙ্গলিয়া গ্রামে ঘটেছে এক হৃদয়বিদারক ও বেদনাময় ঘটনা। নয়তলা ভবন থেকে পড়ে বাবার মৃত্যু—আর মাত্র ২৪ ঘণ্টা পর সেই বাবার ঘরেই জন্ম নেয় একটি পুত্র সন্তান। শোক আর আনন্দের এ বিরল সংমিশ্রণ মুহূর্তেই স্তব্ধ করে দেয় পুরো পরিবার ও গ্রামবাসীকে। নিহত যুবকের নাম মো. রাশেদ (২৪)। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন। জীবিকার তাগিদে চট্টগ্রাম শহরের কোতোয়ালি এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করছিলেন। গত ১৮ জুলাই (শুক্রবার) দুপুর ১২টার দিকে নয়তলা ভবন থেকে পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। একই ঘটনায় সুবর্ণচরের আরও একজন নির্মাণশ্রমিকেরও মৃত্যু হয়।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশেদের বহুদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল—পুত্রসন্তান হলে আত্মীয়-স্বজনকে দাওয়াত দিয়ে ঘটা করে আনন্দ উদযাপন করবেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—ছেলের মুখ আর দেখা হলো না তার। মৃত্যুর মাত্র ২৪ ঘণ্টা পর স্ত্রী এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। শনিবার দুপুরে রাশেদের বাড়িতে গেলে দেখা যায়, শোকাহত পরিবেশে সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতক স্তব্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মায়ের কোল থেকে। পাশেই বসে কাঁদছে রাশেদের চার বছরের কন্যা। স্বজনরা জানায়, এই সংসার এক মুহূর্তেই যেন দিকহারা হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন বলেন, “এমন দৃশ্য জীবনে প্রথম দেখলাম। একদিকে নতুন প্রাণের আগমন, অন্যদিকে সেই প্রাণের জন্মদাতার চিরবিদায়—এই যন্ত্রণার ভাষা নেই।”
এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে চরক্লার্ক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল বাসার বলেন, “রাশেদ অত্যন্ত পরিশ্রমী ও শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিল। তার এ অকাল মৃত্যু আমাদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। একই পরিবারের ঘরে একসঙ্গে সন্তানের জন্ম আর বাবার জানাজা—এমন ঘটনা আমাদের গ্রামে কখনও ঘটেনি। আমি ব্যক্তিগতভাবে ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে পরিবারটির পাশে থাকার চেষ্টা করব।”
এদিকে, পরিবারটি যেন সরকারি সহায়তা পায় সে বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার আশ্বাস দিয়েছেন।