জবি প্রতিনিধি :
‘জুলাই বিপ্লব ২০২৪’-এর বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রসায়ন বিভাগ ডিবেটিং ক্লাবের আয়োজিত ‘জুলাই বিপ্লবোত্তর বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৫’-এর চূড়ান্ত পর্বে বিভাগের ১৫ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না।
রোববার (২৭ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২১৮ নম্বর কক্ষে প্রতিযোগিতার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়।
গত ৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরীত এক বিজ্ঞপ্তিতে "জুলাই বিপ্লব-২০২৪' যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপন প্রসঙ্গে" শিরোনামে বলা হয় 'জুলাই বিপ্লব-২০২৪' উদ্যাপনের লক্ষ্যে প্রত্যেক ইনস্টিটিউট ও বিভাগ কমপক্ষে একটি সেমিনার অথবা বিতর্ক এবং প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে। সেমিনার ও প্রবর প্রতিযোগিতার বিষয় হবে 'জুলাই বিপ্লব-২০২৪' ও বৈষমাহীন বাংলাদেশ (সুযোগ-সমস্যা-উত্তরণ)।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রসায়ন বিভাগে বর্তমানে ২৬ জন শিক্ষক কর্মরত । এর মধ্যে শিক্ষা ছুটিতে রয়েছেন বিভাগের অধ্যাপক ড. গুলশান আরা এবং সহকারী অধ্যাপক তাহমিনা আফরোজ। বাকি ২৪ জনের মধ্যে ৮ জন অনুষ্ঠানে যোগ দিলেও ১৬ জনের অনুপস্থিতি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হয়েও কেন এমন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষক উপস্থিত হননি এ প্রশ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ লোকমান হোসেন,ড. এ জে সালেহ আহাম্মদ, ড. মোহাম্মদ আল মামুন, ড. মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, ড. মুহাম্মদ জামির হোসেন,ড. আওলাদ হোসাইন,ড. মোঃ শাহজাহান,ড. শামছুন নাহার।
অনুপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. আবুল কালাম মোঃ লুৎফর রহমান,ড. মোহাম্মদ সৈয়দ আলম, ড. মো. আমিনুল হক,ড. আবদুস সামাদ,ড. নাফিস আহমদ,ড. মোঃ দেলোয়ার হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান, ড. মোহাম্মদ রাজিবুল হক আকন্দ, ড. জয়ন্ত কুমার সাহা,ড. মোছাঃ মারিয়া রহমান,ড. জগদীশ চন্দ্র সরকার,ড. মোঃ আমিনুল হক। সহকারী অধ্যাপক আবদুল আউয়াল, মোঃ ইলিয়াছ,অপর্ণা সরকার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন,“এটা তো বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ ছিল। রসায়ন বিভাগের মতো একটি বড় বিভাগের এত শিক্ষক অনুপস্থিত থাকবেন, এটা ভাবতেই পারিনি। আমরা যারা নিয়মিত ক্লাসে তাদের দেখছি, তারা কেন অনুপস্থিত, সেটা জানতে চাই। এমনকি কারো পক্ষ থেকে একটা দুঃখপ্রকাশও পাইনি। মনে হচ্ছে ‘জুলাই বিপ্লব’ নিয়ে তারা গুরুত্বই দেননি। এটা শুধু আমাদের বিভাগের জন্য না, পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তির জন্যই লজ্জার বিষয়।”
রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. মো. লোকমান হোসেন। তিনি বলেন, মনে হয়,এটা হলো প্রোগ্রাম আয়োজন যেভাবে জানানোর প্রয়োজন সেভাবে জানানো হয়নি। আমাদের দুইজন শিক্ষক ছুটি। অনেক শিক্ষক ক্লাস নিয়ে চলে গেছে। অনুপস্থিত টিচার্সরা মধ্যে ভুল বুঝাবুজি হয়েছে।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক ড. মো. রইছ উদ্দীন। তিনি বলেন,"বিভাগের যেকোনো অনুষ্ঠানে সাধারণত শিক্ষকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত থাকেন, কিন্তু এই ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম দেখা গেছে, যা রহস্যজনক। কারো ব্যক্তিগত অসুবিধা থাকতেই পারে—সে ক্ষেত্রে তারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে ছুটি নিয়েছেন কি না, তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভালো বলতে পারবে। তবে দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষক যদি অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে সেটা ‘জুলাই বিপ্লব’-কে অস্বীকার ও পাশ কাটিয়ে যাওয়ার নামান্তর। এই বিষয়ে কার্যকর ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।"
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, বিভাগ আয়োজন করেছে সব শিক্ষকের থাকলে অবশ্যই ভালো হতো। এটা দুঃখজনক।
.
রিপোর্টার্স২৪/এস