রিপোর্টার্স ডেস্ক : চব্বিশের অভ্যুত্থানের শহীদ ও জীবিত শহীদদের ‘জাতির সম্পদ’ হিসেবে স্বীকৃতি নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘শহীদ ও জীবিত শহীদরা আমাদের সম্পদ। এ স্বীকৃতি দিতে হবে এবং বাস্তব সম্মান নিশ্চিত করতে হবে। সরকার ও জাতির পক্ষ থেকে এ দায়িত্ব পালিত হওয়া উচিত।’
ডা. শফিকুর বলেন, ‘এটি নিশ্চিত করতে বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন- এই তিনটি প্রক্রিয়া সমান্তরালভাবে এগিয়ে নিতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে আবারও জাতীয় বিপর্যয় ঘটতে পারে।’
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাজধানীতে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার আয়োজিত ‘জুলাই স্মরণ সভায়’ বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, শহীদ পরিবারের সদস্যরা কোনো বিচার না দেখে নির্বাচনে আগ্রহী নন। তাদের বক্তব্য- ‘যারা জঘন্য অপরাধ করেছে, তাদের মধ্যে অন্তত কয়েকজনের বিচার চোখে দেখতে চাই।’
জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিংয়ের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেখানে কিছু অপূর্ণতা ছিল, তা পূরণ করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের ওপর অবিচার হয়েছে, আমাদের নেতাদের বিচারিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে- এমন বিচার আর দেখতে চাই না।’
সরকার গঠনে সুযোগ পেলে কিংবা বিরোধী দলে থাকলেও জামায়াতের ভূমিকা হবে স্পষ্ট, ন্যায়নিষ্ঠ ও অকুতোভয় জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা কাউকে ভয় করব না, শুধু আল্লাহকে। দায়বদ্ধ থাকব নিজের বিবেক ও দেশবাসীর কাছে। অন্য দলগুলো থেকেও একই প্রতিশ্রুতি আশা করি।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চোখ হারানো মানুষের সংখ্যা ৫০০-এর কাছাকাছি, পঙ্গু বা প্যারালাইজড হয়েছেন আড়াইশর বেশি। পাঁচ হাজারের কম নয়, যারা জীবিত লাশ হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।’
জামায়াতের পক্ষ থেকে জুলাই শহীদদের প্রোফাইল করে ১২ খণ্ডে সংরক্ষণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলা, ইংরেজি ও আরবি ভাষায় তা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। অন্ধ, পঙ্গু ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীনদের নিয়েও কাজ চলছে। এ কাজ সরকারিভাবে সম্পন্ন হলে সেটি হবে অধিকতর কার্যকর।
রিপোর্টার্স২৪/আরএইচ