বান্দরবান প্রতিনিধি :
পাহাড়ি অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে কাজু ও কফি চাষ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে বান্দরবানে। আন্তর্জাতিক বাজারে ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের কাজুবাদামের চাহিদা এবং দেশে প্রতি বছর প্রায় ৬০০ কোটি টাকার কফি বিক্রির বাস্তবতায় এই দুটি অর্থকরী ফসল এখন কৃষকদের স্বাবলম্বী করে তুলছে।
বাংলাদেশে আগে কাজুবাদামের ৯৫ শতাংশ চাহিদা পূরণ হতো আমদানির মাধ্যমে। তবে এখন বান্দরবানসহ তিন পার্বত্য জেলায় এই চাহিদা পূরণে ব্যাপকহারে কাজু ও কফি চাষ শুরু হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে যেখানে ৮০০ হেক্টর জমিতে কাজু চাষ হতো, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার হেক্টরে। কফি চাষও একই সময়ে ৪০০ হেক্টর থেকে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার হেক্টর।
২০২১ সালে শুরু হওয়া ‘কফি ও কাজুবাদাম চাষ প্রকল্পের’ আওতায় বর্তমানে প্রায় ৪২০০ হেক্টর জমিতে কাজু চাষ হচ্ছে। আর কফির ক্ষেত্রেও ৬৫ হেক্টর থেকে বেড়ে ১৮০০ হেক্টরে উন্নীত হয়েছে চাষের পরিমাণ।
জেলা কৃষি অফিসের উপপরিচালক এম এম শাহ নেওয়াজ বলেন, “বান্দরবানের জলবায়ু ও মাটি কাজু ও কফি চাষের জন্য আদর্শ। আমরা কৃষকদের উন্নত জাতের চারা, সার ও বালাইনাশকসহ কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি।”
এই খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বান্দরবানে গড়ে উঠেছে প্রথম কাজু ও কফি প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান ‘কিষান ঘর’। এর স্বত্বাধিকারী মো. তারিকুল ইসলাম জানান, “বর্তমানে ৫ থেকে ৬ হাজার কৃষক এ খাতে যুক্ত। কিন্তু ব্যাংকিং সেবা ও কৃষি ঋণের অপ্রতুলতা বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে।”
তিনি আরও বলেন, “চাষিরা এ বছর প্রতি মণ কাজুবাদামে ৭-৮ হাজার টাকা পেয়েছেন। আগ্রহ বাড়ছে, কিন্তু কৃষি ঋণ সহজলভ্য না হওয়ায় অনেকে বড় পরিসরে যেতে পারছেন না।”
এদিকে কফি-কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজার সম্প্রসারণে ৩০০ উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। তাদের সিনিয়র কর্মকর্তা শাহ্ মো. খোরশেদ কাদের বলেন, “২০২৮ সালের মধ্যে ৩ শত উদ্যোক্তাকে ‘পার্টনার প্রকল্পের’ আওতায় উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।”
তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে লোকবলের অভাব একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে তিন পার্বত্য জেলায় প্রায় ২ হাজার বাগান রক্ষণাবেক্ষণে মাত্র ৬ জন মাঠ সংগঠক দায়িত্ব পালন করছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও ব্যাংক ঋণ সহজলভ্য হলে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে দেশীয় চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করতে পারবে পাহাড়ি কৃষকেরাই।
.
রিপোর্টার্স২৪/এস