শাহানুজ্জামান টিটু :
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের একটি অংশকে প্রায়ই দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন ইস্যুতে রাজপথে। ছোটখাটো ঘটনাকে কেন্দ্র করে অবরোধ, আন্দোলন, ভাঙচুর কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ এখন যেন এক ধরনের নিয়মিত চিত্র। অথচ এদের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত ছিল—পড়ালেখা, স্কিল ডেভেলপমেন্ট এবং গবেষণায় আত্মনিয়োগ।
বিশ্ব যখন প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায়, আমরা তখন রাজপথে
বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো আজ ড্রোন, মিসাইল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও মহাকাশ গবেষণার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। সেই সময় আমাদের শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত "দাবি আদায়ের" নামে আন্দোলন কর্মসূচি দিয়ে দেশকে অচল করে তোলায়। এই ব্যবধান শুধু দুঃখজনক নয়, ভয়াবহ বিপদেরও পূর্বাভাস।
পড়ালেখার সময় আন্দোলন, পরে বলি ‘চাকরি নেই’
অনেকেই আজ উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেও বেকার। কারণ কী? তারা সময়মতো নিজেদের স্কিল বাড়াননি, আত্মউন্নয়নে মনোযোগ দেননি। অথচ আজ চাকরি না পাওয়ার দায় সরকার বা রাষ্ট্রের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, দেশে এমন অনেক পদ আছে যা বছরের পর বছর খালি পড়ে থাকে, কারণ উপযুক্ত জনবল পাওয়া যায় না। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোও দক্ষতা না থাকায় আমাদের তরুণদের নিতে চায় না।
বিশ্ববাজারে সুযোগ আছে, আপনি কি প্রস্তুত?
আজকের দিনে বসে থেকেও বিশ্ববাজারে কাজ করা সম্ভব—ফ্রিল্যান্সিং, রিমোট জব, আউটসোর্সিং—সব ক্ষেত্রেই বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু আপনি কি নিজেকে সেই মানের করে গড়ে তুলেছেন? আপনার সার্টিফিকেট থাকলেও প্রয়োজন দক্ষতা। রাজপথে স্লোগান দেওয়ার অভিজ্ঞতা কোনো চাকরির যোগ্যতা নয়।
শহীদদের স্বপ্ন কি ছিল শুধু দাবি আদায়?
স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন—সবক্ষেত্রেই ছাত্রসমাজের ভূমিকা ঐতিহাসিক। কিন্তু তারা কি এসব করেছিলেন শুধুমাত্র ছাত্ররা যেন ভবিষ্যতে রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে ওঠে? আজ সাধারণ মানুষ প্রশ্ন করে—তাদের রক্ত কি কেবল আজকের সড়ক দখল, জনদুর্ভোগ আর সরকারি অফিসে হামলার জন্যই বিসর্জিত হয়েছিল?
দাবি হোক শিক্ষার পরিবেশ, স্কিল ডেভেলপমেন্ট, গবেষণা সুবিধার জন্য
ছাত্রদের প্রকৃত দাবি হওয়া উচিত—দেশে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা-ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, স্কিল ট্রেইনিং ও স্টার্টআপে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি। রাজপথ নয়, প্রয়োজন প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন।
শেষ কথা: বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে নতুন সম্ভাবনার পথে। আমরা যদি আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার না বানিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে না পারি, তবে উন্নয়নের স্রোতে আমরা পিছিয়ে পড়ব আরও বহু বছর।