বেনাপোল প্রতিনিধি :
যশোরের বেনাপোলের সাদিপুর গ্রামের দরিদ্র পরিবারের মেয়ে ও টিকটক তারকা ইয়াসমিন আক্তার মাহী (২১) প্রেমিকের অবহেলা ও সামাজিক অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন। অভিযুক্ত প্রেমিক সাকিবুল হাসান বিশাল স্থানীয় আলোচিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান। এ ঘটনায় বিশাল ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছে নিহতের পরিবার।
২২ জুলাই রাত সোয়া ১টার দিকে যশোর শহরের ধর্মতলা এলাকার একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন মাহী। মৃত্যুর আগে টিকটকে পোস্ট করা ভিডিওতে তিনি লিখে যান— “ভালোবাসা বলতে কিছুই হয় না।”
প্রেম, আপত্তি ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
স্থানীয় সূত্র জানায়, দেড় বছর আগে মাহীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান বিশাল। প্রেমিকার জন্য যশোর শহরে একটি ভাড়া ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা করেন তিনি। সেখানে মাঝে মাঝে একসঙ্গে থাকতেন তারা। কিন্তু সম্পর্কের বিষয়টি পরিবারের জানা মাত্রই শুরু হয় আপত্তি, হুমকি ও অপমান।
মাহীর ভাই অভিযোগ করেন, “আমরা গরিব বলে ওরা আমার বোনকে বারবার অপমান করেছে। এমনকি আমাকে মারধরও করেছে।”
শেষ কল, শেষ ভিডিও
আত্মহত্যার মুহূর্তে মাহী ভিডিও কলে ছিলেন প্রেমিক বিশালের সঙ্গে। কাঁদতে কাঁদতে নিজের কষ্ট ও হতাশার কথা বললেও বিশাল কোনো উদ্যোগ নেননি বলে অভিযোগ। মৃত্যুর ঠিক আগে পোস্ট করা ভিডিওতে ঘরের ছাদের ফ্যান থেকে ঝুলন্ত ওড়না দেখা যায়।
আইনি পদক্ষেপ ও তদন্ত
যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি আবুল হাসনাত জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মৃত্যুর প্ররোচনার অভিযোগে পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা (নং ৯৭, তারিখ ২২/৭/২৫) হয়েছে।
সামাজিক প্রতিক্রিয়া
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। অনেকেই একে “শ্রেণিভিত্তিক সামাজিক নিপীড়নের করুণ উদাহরণ” বলছেন। মাহীকে দোষী নয়, বরং ভুক্তভোগী হিসেবে দেখছেন অধিকাংশ মানুষ। অনেকে মন্তব্য করেছেন— “এটা আত্মহত্যা নয়, সামাজিক শ্রেণিচাপ ও মনস্তাত্ত্বিক খুন।”
অভিযুক্ত পরিবারের বক্তব্য
প্রেমিকের বাবা ওলিয়ার রহমান দাবি করেছেন, “আমার ছেলে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। মাহী বয়সে বড়, আর আমার ছেলে ক্লাস নাইনে পড়ে।” তবে বিশালের ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।