মুজাহিদুল ইসলাম সোহেল, নোয়াখালী :
আট সদস্যের পরিবার। সকাল থেকে পরিবারের সদস্যদের একটু পানির চাহিদা পূরণে এক কলস পানির জন্য ছুটতে হয় বাড়ির পর বাড়ি। একটি পানির গাড়ি আসবে, সে গাড়ি থেকে বাড়িতে পানি নিবেন যে আশায় কলসি নিয়ে হাজির রাস্তায়। সুপেয় পানির গাড়ি দেখে মনে যেন শত সাধনার ধন পেয়েছেন। কথাগুলো বলছেন সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের চরমজিদ গ্রামের কৃষক আবদুল হালিমের স্ত্রী গৃহবধূ ছালেহা বেগম।
শুক্রবার দিনভর উপজেলার সুপেয় পানির সংকটে আপদকালীন চাহিদা পূরণে জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের চরমজিদ গ্রামে শতাধিক পরিবারের মাঝে সুপেয় পানি ও প্লাস্টিকের কন্টেনার বিতরণ করে। পানির গায়ে দেখে মসজিদের মাইকে ঘোষণা পেয়ে মুহূর্তের মধ্যে শত কলসি এসে পানির জন্য ভিড় জমে।
উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ৭২টি ওয়ার্ডে চরম সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এ অঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমে বরো ধান চাষে অপরিকল্পিত ভাবে ভূগর্স্থ পানির ব্যবহার করায় সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে চরমভাবে। এজনপদের জন্য এখন সুপেয় পানির দুর্যোগ চলছে।
চৈত্রের তাপদাহ,উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ৯০ ভাগ বাড়ির পুকুর,খাল বিল-ডোবা শুকিয়ে গেছে। শুধু সুপেয় পানি নয়, গৃহস্থালির কাজেও চলছে স্থবিরতা। চলতি মৌসুমে ৯৫ ভাগ নলকূপে সুপেয় পানি পাচ্ছে না মানুষ। গবাদিপশুসহ বন্যপ্রাণীরা পানির সংকটে ভূগছে। পুকুর গুলো শুকিয়ে যাওয়ায় পশুপাখি ও বন্যপ্রাণীরা লোনাপানি পান করছে।
সরেজমিন, পানির গাড়ি আসার খবরে নারীর সাথে ছোট ছোট শিশুরাও ছুটছে পানি আনতে । এযেন অন্যরকরম অনুভূতি। এক ফোটা সুপেয় পানি খবর শিশু কিশোরদের ধুলোয় মাখা কদমাক্ত চেহারা যেন খানিকটা তৃষ্ণা মিটিয়ে তৃপ্ত চেহারায় দীর্ঘ খুশির পরশ ভুলিয়ে দিলো। নারী ও পুরুষরা একটু সুপেয় পানি পেয়ে যেন মহাপরিশ্রমের দীর্ঘপথের ইতি টানলেন। এক সময় শুধু উপজেলার কয়েকটি এলাকায় পানি সংকটের খবর পাওয়া গেলেও এ সংকট ক্রমান্বয়ে ছড়িয়ে পড়েছে পুরো উপজেলা জুড়ে।
উপজেলার সুপেয় পানির সংকটকালীন সময়ে উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন এর অভিযোগে জেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জেলা ও উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা আজ দিনব্যাপী উপজেলার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা পানি সরবরাহ করে। এসময় জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজগর উদ্দিন দুখু ও উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্র মামুন হোসেন রোহান, বিএনপি নেতা অলি উল্যাহসহ গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পানির সংকটে ভুক্তভোগী চরমজিদ গ্রামের মুছা মিয়া বলেন, প্রতিদিন বিকেলে চার কিলোমিটার দূরে একটি সেলু কল থেকে পানি আনতে হতো। এখন আজকে এক কলস পানি পেলেও এভাবে পানির সংকট কাটবে না।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, এ উপজেলায় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে চৈত্রের খড়ায় আরও তীব্র হয়। তাই এ সময় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত সুপেয় পানি সরবরাহ করা হবে।
সুপেয় পানির সংকট নিরসনের বিষয়ে উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন নোয়াখালী এর উপদেষ্টা সাংবাদিক জাহিদুল রহমান বলেন, সুবর্ণচরে সুপেয় পানির সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার সাথে কথা হয়েছে। পানির সংকট নিরসনে দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। যাতে সুপেয় পানির সংকট ও সেচ সংকট নিরসন করা যায়।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছেং মং রাখাইন বলেন, বিএডিসিকে সাথে নিয়ে অবৈধ নলকূপের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
.
রিপোর্টার্স২৪/এস